যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন সড়কগুলোতে পুলিশি লাইসেন্স প্লেট রিডার বা ফ্লক ক্যামেরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফ্লোরিডার ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনের চিফ অপারেটিং অফিসার উইল ওয়াটসের দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা জননিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, সড়কগুলোতে লাইসেন্স প্লেট রিডার বা এলপিআর সিস্টেমের ব্যবহার অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। একইসঙ্গে এই প্রযুক্তির অপব্যবহার, তথ্য ফাঁস এবং নজরদারি নিয়ে উদ্বেগজনক প্রতিবেদন পাওয়ার কারণে ফ্লোরিডার নাগরিকদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, বর্তমান সব অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। ৩১ আগস্টের পর থেকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পুলিশকে রাষ্ট্রীয় সড়ক থেকে ক্যামেরাগুলো সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনো ডিভাইসের আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলেও জানানো হয়।
ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিসান্টিস গত আগস্ট মাসে জানিয়েছিলেন, রাজ্যে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা কেবল রাষ্ট্রীয় সড়কের জন্য প্রযোজ্য। রাজ্যের অধিকাংশ ক্যামেরা বা ৯৮ শতাংশই স্থানীয় সড়ক ও ব্যক্তিগত মালিকানাধীন এলাকায় বসানো, যার ওপর এই বিধিনিষেধ সরাসরি প্রভাব ফেলবে না। জ্যাকসনভিল ও ওকালুসা কাউন্টির শেরিফরাও নিজ নিজ এলাকা থেকে ক্যামেরা সরিয়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
লাইসেন্স প্লেট রিডার সাধারণত চুরি হওয়া গাড়ি শনাক্তকরণ কিংবা অপরাধ তদন্তে ব্যবহৃত হয়। তবে ফ্লক সেফটি নামের এই কোম্পানির ক্যামেরাগুলোর বিরুদ্ধে নজরদারি এবং অপব্যবহারের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ এবং ওহাইও’র দুটি কাউন্টি ফ্লক ক্যামেরার ব্যবহার স্থগিত করেছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটও এই ধরনের হার্ডওয়্যার ক্রয়ের অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।