ইউরোপজুড়ে ক্রমবর্ধমান নাশকতা, নেপথ্যে রাশিয়ার হাত থাকার অভিযোগ

September 5, 2026

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিরক্ষা ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে ক্রমবর্ধমান নাশকতার পেছনে রাশিয়াকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জার্মানির লিপজিগ বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন উদ্ধারের পর দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যে, এই হামলার পেছনে রাশিয়ার হাত রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার এই কর্মকাণ্ডকে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগস্ট মাসজুড়ে ইতালি, এস্তোনিয়া, স্লোভাকিয়া ও পোল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী কারখানা ও গুদামে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারসিন কিয়েরউইনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে এবং নাশকতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে গত আগস্টে জার্মানির লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যা ইউক্রেনে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই নাশকতা মূলত ‘কোয়ার্সিভ সিগন্যালিং’ বা চাপ প্রয়োগের একটি অংশ। এর মাধ্যমে তারা ইউরোপের দেশগুলোকে ইউক্রেনে সহায়তা প্রদান থেকে বিরত থাকার বার্তা দিতে চাইছে। কিং’স কলেজের যুদ্ধ শিক্ষা বিভাগের ড্যানিয়েলা রিখটারোভা মনে করেন, ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে গভীরভাবে হামলা চালানোর পর মস্কো চাপে পড়ে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এসব নাশকতা চালাচ্ছে।

এদিকে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, রাশিয়া মূলত ন্যাটো দেশগুলোর সক্ষমতা ও সহনশীলতার সীমা পরীক্ষা করছে। জার্মানির নিরাপত্তা প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর দেশটিতে ১৬৫টিরও বেশি নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়ার এই কর্মকাণ্ড স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের নাশকতা কৌশলের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যেখানে ছোটখাটো ও আড়াল করা সম্ভব এমন হামলার মাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হতো।

Leave a Comment