নেপালের তৃশুলি ৩এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার অভিযানকে ‘চমকের ওপর চমক’ বলে অভিহিত করেছেন আন্তর্জাতিক টানেলিং বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্স। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে গত সপ্তাহে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় সুড়ঙ্গটি কাদামাটি ও পাথরে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই দুরূহ উদ্ধার অভিযানের বর্ণনা দেন। নেপালের জলবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছেন ডিক্স এবং তিনি জানিয়েছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে দুই কর্মীকে জীবিত উদ্ধার করা ছিল প্রায় অসম্ভব এক ঘটনা।
উদ্ধার অভিযানের শুরুতে প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ খুঁজে বের করা। বন্যার কারণে পুরো ভূপ্রকৃতি বদলে যাওয়ায় প্রবেশপথটি মাটির নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিল। ইন্টারন্যাশনাল টানেলিং অ্যান্ড আন্ডারগ্রাউন্ড স্পেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ডিক্স জানান, পুরনো মানচিত্র, স্যাটেলাইট ছবি, হেলিকপ্টারের ফুটেজ এবং পাহাড়ের গায়ে থাকা বিদ্যুৎ খুঁটি ব্যবহার করে তারা সুড়ঙ্গের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন।
প্রবেশপথ পাওয়ার পর শুরু হয় মূল উদ্ধার কাজ। সুড়ঙ্গটি কারের চেয়েও বড় বড় পাথর ও কাদায় পূর্ণ ছিল। ডিক্স জানান, সুড়ঙ্গের ভেতর মানুষ আটকা থাকার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সুনির্দিষ্ট বিস্ফোরক ব্যবহারের মাধ্যমে নেপালি সেনাবাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পথ পরিষ্কার করেছে। এছাড়া সুড়ঙ্গে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা খনন করা হয়।
শুক্রবার ভোরে ধ্বংসস্তূপের ওপরের অংশ দিয়ে সরু পথ তৈরি করে সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারজান নামে দুই কর্মীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ডিক্স জানান, উদ্ধারের সময় সুড়ঙ্গের ভেতর পানির স্তর ও পরবর্তী বন্যা নিয়ে এখনো ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমানে উদ্ধারকারী দল সুড়ঙ্গের ভেতরে অবস্থিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যাকে তিনি ‘গোল্ডিলকস জোন’ বলে অভিহিত করেছেন। সেখানে আরও অনেকে জীবিত থাকতে পারেন বলে আশা করছেন উদ্ধারকারীরা।