আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনের ক্রোক পার্কে অপরাজিত ফ্লোরা পিলিকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখলেন আইরিশ বক্সিং কিংবদন্তি কেটি টেইলর। তিনবারের অবিসংবাদিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ৪০ বছর বয়সী টেইলর সর্বসম্মতিক্রমে পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়ে ডব্লিউবিসি বেল্ট নিজের দখলে নেন। ৮০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে এই জয় তাকে বক্সিং ইতিহাসের অন্যতম সেরা বিদায়ের মুহূর্ত এনে দিয়েছে।
ম্যাচে দুর্দান্ত ফুটওয়ার্ক, গতি এবং নিখুঁত কৌশলে টেইলর ফরাসি প্রতিপক্ষ পিলিকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে রাখেন। বিচারকদের রায়ে ১০০-৯০, ১০০-৯০ এবং ৯৮-৯১ স্কোরে বিজয়ী ঘোষিত হন তিনি। ক্যারিয়ারের দীর্ঘ ২৫ বছর পর নিজের স্বপ্নের ভেন্যুতে এমন জয়কে রূপকথার সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন ভক্তরা।
ম্যাচ শেষে আয়োজক এডি হার্ন তাকে আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসের সেরা ক্রীড়াবিদ হিসেবে অভিহিত করেন। টেইলর রিংয়ের মাঝে তার গ্লাভস এবং বেল্ট রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্সিংকে বিদায় জানান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ২৬ জয়ের বিপরীতে মাত্র ১টি পরাজয়ের রেকর্ড নিয়ে তিনি রিং ছাড়লেন।
আয়োজন ও পরিবেশ
ক্রোক পার্কের এই ঐতিহাসিক বক্সিং ইভেন্টটি ছিল এক আবেগঘন উৎসব। আইরিশ পপ ব্যান্ড ওয়েস্টলাইফের সংগীত ও হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে পুরো স্টেডিয়াম ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। উপস্থিত ৮০ শতাংশ দর্শক জীবনে প্রথমবারের মতো বক্সিং ম্যাচ উপভোগ করেছেন, যা টেইলরের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তারই প্রমাণ।
টেইলর নিজেই এই বিশাল আয়োজনের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, নারী অ্যাথলিটদের ম্যাচে ৮০ হাজার টিকিট বিক্রির ঘটনা আয়ারল্যান্ড ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে সম্ভব নয়।
legacy
অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন এবং দুই ওজন শ্রেণিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন টেইলরকে নারী পেশাদার বক্সিংয়ের অগ্রদূত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যে সময়ে মেয়েরা বক্সিংয়ে আসার সুযোগ পেত না, সেই বাধা টপকে তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। তার এই অর্জন শুধু পরিসংখ্যানের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এক দীর্ঘ অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।