যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ২০২৬ সালে স্টিম ডেক কেনার প্রয়োজনীয়তা এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রযুক্তি মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এআই প্রযুক্তির প্রসারের ফলে র্যামের সংকট এবং গেমিং কনসোলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্টিম ডেকের দাম ৩০০ ডলার বেড়েছে। এর ফলে নতুন প্রজন্মের হ্যান্ডহেল্ড গেমিং ডিভাইসের ভিড়ে স্টিম ডেক তার আকর্ষণ ধরে রাখতে পারছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রতিযোগিতার মুখে স্টিম ডেক
বর্তমানে আসুস আরওজি এক্সবক্স অ্যালাই এবং লেনোভো লিজিয়ন গো স্টিম ডেকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাজারে অবস্থান করছে। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ডিভাইসগুলো স্টিম ডেকের চেয়ে ভালো ফ্রেম রেট বা গ্রাফিক্স পারফরম্যান্স প্রদান করতে সক্ষম। তবে কিছু গেমে এই পার্থক্যের হার খুবই সামান্য। আসুস এক্সবক্স অ্যালাই তাদের জন্য সুবিধাজনক যারা এক্সবক্স গেম পছন্দ করেন, যদিও উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের সীমাবদ্ধতা ডিভাইসটিকে কিছুটা পিছিয়ে দেয়। অন্যদিকে, লিজিয়ন গো তাদের জয়-কন সদৃশ ডিটাচেবল কন্ট্রোলারের কারণে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।
সুইচ ২ বনাম স্টিম ডেক
বাজারের অন্যতম সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে নিনটেনডো সুইচ ২। ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের তথ্য অনুযায়ী, এর দাম ৫০০ ডলারে উন্নীত হলেও এটি স্টিম ডেক বা অন্যান্য প্রতিযোগীদের চেয়ে বেশ কম। এছাড়া এনভিডিয়া ডিএলএসএস প্রযুক্তি এবং এইচডিআর সাপোর্টের দিক থেকে এটি অনেকটা এগিয়ে রয়েছে।
কেনার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেবেন
প্রযুক্তি সমালোচক জেসিকা কন্ডিত মনে করেন, যারা শুধুমাত্র স্টিম প্ল্যাটফর্মের গেম খেলতে আগ্রহী এবং অত্যাধুনিক গ্রাফিক্স নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নন, তাদের জন্য স্টিম ডেক এখনো একটি മികച്ച ডিভাইস। বিশেষ করে ব্যাটারি লাইফ এবং দীর্ঘক্ষণ গেমিংয়ের আরামের দিক থেকে এটি অন্যান্য কনসোলের তুলনায় এগিয়ে। তবে যারা ফোর্টনাইট বা কল অব ডিউটির মতো গেম খেলতে চান, তাদের ক্ষেত্রে স্টিম ওএস বাধার কারণ হতে পারে। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটি নির্ভর করছে ব্যবহারকারী কোন অপারেটিং সিস্টেম পছন্দ করছেন এবং কতটুকু অর্থ ব্যয়ের সামর্থ্য রাখছেন তার ওপর।