জন্মের আগেই রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে মানুষের জয়েন্টে

September 6, 2026

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি ইনস্টিটিউটের গবেষকরা দেখেছেন যে, মানুষের কিছু জয়েন্ট জন্মের আগে থেকেই রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো প্রদাহজনিত রোগের প্রতি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই আবিষ্কার রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের দীর্ঘস্থায়ী এক রহস্যের সমাধান দিতে পারে—কেন এই রোগটি নির্দিষ্ট কিছু জয়েন্টকে বারবার আক্রমণ করে, অথচ অন্যগুলোকে আক্রান্ত করে না। নেচার ইমিউনোলজি জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা বলছে, রোগটি শুধু রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে না, বরং জন্মের সময় প্রতিটি জয়েন্টের গঠনগত পার্থক্যের ওপরও অনেকটা নির্ভর করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, আঙ্গুলের যেসব জয়েন্ট রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে বেশি আক্রান্ত হয় এবং যেসব জয়েন্ট সাধারণত অক্ষত থাকে, তাদের মধ্যে গঠনগত পার্থক্য রয়েছে। বিজ্ঞানীরা প্রক্সিমাল ইন্টারফ্যালাঞ্জিয়াল (পিআইপি) জয়েন্ট এবং ডিস্টাল ইন্টারফ্যালাঞ্জিয়াল (ডিআইপি) জয়েন্টের তুলনা করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, পিআইপি জয়েন্টে সিনোভিয়াল টিস্যুর পরিমাণ বেশি থাকে এবং সেখানে ‘পিআই১৬-পজিটিভ’ ফাইব্রোব্লাস্ট নামক কোষের আধিক্য থাকে। জন্মের অনেক আগে থেকেই এই পার্থক্যগুলো জয়েন্টে বিদ্যমান থাকে, যা পরবর্তী জীবনে প্রদাহের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সলেশনাল রিউমাটোলজির অধ্যাপক ক্রিস্টোফার বাকলি বলেন, বহু দশক ধরেই আমরা জানি রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস নির্দিষ্ট কিছু জয়েন্টকে লক্ষ্যবস্তু করে। তবে এর সঠিক কারণ জানা ছিল না। আমাদের গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে, এর উত্তর কেবল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় নয়, বরং জয়েন্টের টিস্যুর নিজস্ব কাঠামোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে। ভ্রূণ অবস্থায় জয়েন্ট তৈরির সময় যেসব সেলুলার বা কোষীয় বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়, তা ঠিক করে দেয় পরবর্তী জীবনে কোন জয়েন্ট প্রদাহের শিকার হবে।

গবেষণা দলটি মানবদেহের আঙ্গুলের জয়েন্ট বিকাশের একটি বিশদ মানচিত্র তৈরি করতে সিঙ্গেল-সেল সিকোয়েন্সিং, উন্নত ইমেজ অ্যানালাইসিস এবং উচ্চ-রেজোলিউশন থ্রিডি এক্স-রে স্ক্যানিং ব্যবহার করেছে। তারা দেখেছে, ভ্রূণ অবস্থায় জয়েন্টগুলোতে রোগ প্রতিরোধক কোষের চেয়ে গঠনমূলক কোষই বেশি থাকে। এই ফাইব্রোব্লাস্ট কোষগুলো সাধারণত জয়েন্টের পিচ্ছিলকারক হিসেবে কাজ করে। তবে আর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে এই কোষগুলো অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার আর্থ্রাইটিস চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। বিশেষ করে সিনোভিয়াল ফাইব্রোব্লাস্টের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক আচরণ ফিরিয়ে আনার উপায় নিয়ে কাজ করতে এটি সহায়ক হবে। গবেষণার এই ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি কেবল পরবর্তী জীবনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না, বরং জয়েন্ট তৈরির সময়ই তার ভিত্তি নির্ধারিত হয়ে যায়।

Leave a Comment