ইন্দোনেশিয়ায় তীব্র খরা এবং এল নিনোর প্রভাবে পিট কয়লার ভূগর্ভস্থ আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রবার্ট ফিল্ডের মতে, দেশটির অগ্নিকাণ্ড পরিস্থিতি ২০১৫ সালের মতো বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই আগুন মাটির নিচে দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে থাকে, যা নেভানো অত্যন্ত কঠিন।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ বনের আগুনের চেয়ে এই পিট কয়লার আগুন অনেক বেশি ক্ষতিকর। এটি বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে সূক্ষ্ম কণা, সালফার ডাই অক্সাইড এবং মিথেন নিঃসরণ করে। বর্ষা মৌসুম না আসা পর্যন্ত এই আগুন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কেন এই আগুন বিপজ্জনক
পিটল্যান্ড বা জলাভূমির মাটি শুকিয়ে গেলে তাতে আগুন ধরে যায়। এই আগুন মাটির নিচে ধিকিধিকি জ্বলতে থাকে, যা উপগ্রহের মাধ্যমে শনাক্ত করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। ঘন ধোঁয়ার কারণে উপগ্রহের সেন্সর অনেক সময় আগুনের প্রকৃত বিস্তৃতি ধরতে পারে না।
২০২৬ সালের অগাস্ট মাস থেকে ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অত্যন্ত কম। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই খরা পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়েছে। নাসা এবং নোয়া স্যাটেলাইটের তথ্যানুসারে, আগস্টের শেষ নাগাদ প্রায় এক হাজার অগ্নিকাণ্ডের উৎস শনাক্ত করা হয়েছে।
জনজীবনে প্রভাব
ইতিমধ্যে আগুনের ধোঁয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভারী ধোঁয়ার কারণে ইন্দোনেশিয়ার অনেক স্কুল অনলাইনে পাঠদান শুরু করেছে, জাতীয় উদ্যান বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বেশ কিছু ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। বিশেষজ্ঞ মার্ক কোচরান জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছাড়া এই সমস্যার সমাধান অসম্ভব।
এর আগে ২০১৫ সালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রচুর পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়েছিল, যা জাপানের এক বছরের মোট নিঃসরণের চেয়েও বেশি। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কায় জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার জলাভূমি পুনরুদ্ধার ও সেচ ব্যবস্থা উন্নয়নের মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে, তবে এবারের খরা এই ব্যবস্থাগুলোর জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।