বনেটহেড হাঙরের মাথার আকৃতি নিয়ে প্রচলিত ধারণা ভুল প্রমাণ করলেন বিজ্ঞানীরা

September 6, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বনেটহেড হাঙরের মাথার অদ্ভুত আকৃতি পরিবর্তনের কারণ নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ভুল প্রমাণ করেছেন গবেষকরা। ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি রোজেনস্টিল স্কুল অব মেরিন, অ্যাটমস্ফেরিক অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সের গবেষক ক্যাথি লিউ এবং তার সহযোগীরা এই গবেষণায় নেতৃত্ব দেন। হাঙরের মাথার এই পরিবর্তনের রহস্য উন্মোচন বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

গবেষকদের নতুন তথ্য অনুযায়ী, বনেটহেড হাঙরের মাথার আকৃতি কেবল পুরুষ হাঙরের বয়ঃসন্ধিকালেই পরিবর্তিত হয় না। বরং বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্ত্রী ও পুরুষ উভয় হাঙরের মাথার গড়নই তীক্ষ্ণ থেকে গোলাকার হতে থাকে। তবে এই পরিবর্তনের হার পুরুষদের চেয়ে স্ত্রী হাঙরের ক্ষেত্রে অনেক বেশি স্পষ্ট। আগে ধারণা করা হতো, পুরুষ বনেটহেড হাঙর যৌন পরিপক্কতা লাভের পর তাদের মাথার আকৃতি তীক্ষ্ণ করে ফেলে।

বিস্কেন বে এবং টাম্পা বে অঞ্চলে মোট ১৪৪টি হাঙরের ওপর গবেষণাটি চালানো হয়। গবেষকরা হাঙরের মাথার গঠন এবং তাদের খাদ্যতালিকাগত অভ্যাসের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তাও পরীক্ষা করেছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, একই এলাকায় বসবাসকারী স্ত্রী ও পুরুষ হাঙরের খাদ্যাভ্যাস মূলত একই রকম। ফলে মাথার আকৃতির ভিন্নতার পেছনে খাদ্যাভ্যাসের কোনো ভূমিকা নেই বলেই গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন।

গবেষণার অন্যতম লেখক ক্যাথরিন ম্যাকডোনাল্ড জানান, মাথার আকৃতির এই পরিবর্তনের কারণ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে তরুণ বয়সে মাথার তীক্ষ্ণ আকৃতি হাঙরের সাঁতার কাটার দক্ষতায় সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরবর্তী গবেষণায় সাঁতার কাটার সক্ষমতা এবং ভ্রূণীয় বিকাশের ওপর আলোকপাত করে এই রহস্য সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এই গবেষণাটি ‘ইন্টিগ্রেটিভ অর্গানিজমাল বায়োলজি’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

Leave a Comment