খাবার অস্বাস্থ্যকর, তোলপাড় ফেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারকা মুম্বাইয়ের ফুড কমিশনার

September 7, 2026

ভারতের মহারাষ্ট্রের মুম্বাইতে রেস্তোরাঁ এবং ক্যাফেগুলোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন রাজ্যের ফুড কমিশনার তুকারাম মুন্ডে। তিনি জানিয়েছেন, ব্যবসার আকার বা খ্যাতি যাই হোক না কেন, খাদ্য নিরাপত্তা আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর করা জরুরি। মূলত জনস্বাস্থ্যের স্বার্থেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মুম্বাইয়ের নামী রেস্তোরাঁ ও মেম্বারস-অনলি ক্লাবের রান্নাঘরে তেলাপোকা, মাকড়সার জাল এবং পচা সবজির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়। মে মাস থেকে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) রাজ্যের হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়। এর কেন্দ্রে রয়েছেন ৫১ বছর বয়সী সিভিল সার্ভেন্ট তুকারাম মুন্ডে।

অভিযানের প্রভাব

মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মুন্ডে ৪ হাজারের বেশি রেস্তোরাঁ ও ফুড ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে এবং ১ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রাপ্ত ১৬ হাজারেরও বেশি অভিযোগের ভিত্তিতে তার দপ্তর ব্যবস্থা নিয়েছে।

মুন্ডের এই কাজের ধরনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ গ্রাহকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানালেও, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতিগুলোর অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া না মেনেই তাড়াহুড়ো করে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে আদালতও রেগুলেটরের এই কঠোরতাকে অতিরিক্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। বম্বে হাইকোর্ট একটি মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স স্থগিতের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিল।

সবাইয়ের জন্য আইন

আদালতের সমালোচনার পর মুন্ডের টিম হাই কোর্ট চত্বরের ক্যান্টিনগুলোতেও অভিযান চালিয়ে অনিয়ম শনাক্ত করে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা নিয়ম মেনে চললে এসব অভিযানের প্রয়োজন হতো না। বর্তমানে তার দপ্তর স্কুলগুলোর আশেপাশের দোকানে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি বন্ধ এবং মিড-ডে মিল সরবরাহকারীদের কঠোর নজরদারিতে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে।

মুন্ডে বলেন, লক্ষ্য শুধু ব্যবসা বন্ধ করা নয়, বরং নিশ্চিত করা যে মানুষের কাছে পৌঁছানো খাবার নিরাপদ এবং মানসম্মত। ভারতের সাবেক খাদ্য নিয়ন্ত্রক পবন আগরওয়ালের মতে, মুন্ডে খাদ্য নিরাপত্তা ইস্যুকে দৃশ্যমান করেছেন, যা গ্রাহক সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনের জন্য ব্যক্তির ওপর নির্ভর না করে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

Leave a Comment