জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পাওয়ার পর কট্টর ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) দাবি করেছে যে, গণতন্ত্রের স্বার্থেই অন্য দলগুলোর উচিত তাদের সাথে কাজ করা। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দলটি ৪৩.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হলেও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে তিনটি আসন কম পেয়েছে। দলের ডেপুটি পার্লামেন্টারি লিডার বিয়াট্রিক্স ফন স্টর্চ বিবিসিকে বলেছেন, জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা যায় না। এটিই এখন গণতন্ত্রের দাবি যে রাজনৈতিক দলগুলোকে একে অপরের সাথে আলোচনায় বসতে হবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির কোনো অঙ্গরাজ্যে কট্টর ডানপন্থী দল কখনো ক্ষমতায় থাকেনি। এএফডি যদি সরকার গঠন করতে পারে, তবে পুলিশ ও স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডির নেতা উলরিচ সিগমুন্ড দাবি করেছেন, এই ফলাফল সরকার গঠনের স্পষ্ট ম্যান্ডেট। তিনি জানিয়েছেন, অন্য দলের সাথে আলাপ-আলোচনা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন পেতে কয়েক দিন বা সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
এএফডি সাধারণত অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতি এবং শরণার্থী শিশুদের আলাদা শ্রেণিকক্ষে রাখার মতো বিতর্কিত পরিকল্পনার জন্য পরিচিত। এদিকে দেশটির মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো এএফডির সাথে কোনো ধরনের জোট বা সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। তবে এএফডি এখন কনজারভেটিভ সিডিইউ দলের এমন সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করছে যারা নিজ দলের সিদ্ধান্তের সাথে দ্বিমত পোষণ করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই জয়কে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ এই ফলাফলকে সিডিইউর জন্য একটি গভীর মোড় বলে মন্তব্য করেছেন। যদিও এএফডির এই জয় নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই বিজয়কে স্বাগত জানানো হলেও পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এএফডির সাফল্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন।