যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত আলঝেইমার্স অ্যাসোসিয়েশন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে গবেষকরা জানিয়েছেন যে, সুনির্দিষ্ট লাইফস্টাইল কর্মসূচি অনুসরণের মাধ্যমে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিতে থাকা প্রবীণদের স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে উন্নত করা সম্ভব। আলঝেইমার্স অ্যাসোসিয়েশনের অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণায় অংশ নেন লাতিন আমেরিকার ১১টি দেশের প্রবীণ নাগরিকরা।
গবেষণাটিতে অংশগ্রহণকারীদের দুটি দলে ভাগ করা হয়েছিল। প্রথম দলটি নিয়মিত কোচিং, তত্ত্বাবধানে ব্যায়াম, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ, মস্তিষ্ক প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জীবনধারা পরিবর্তনের সুযোগ পায়। দ্বিতীয় দলটিকে কেবল সাধারণ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া হয়। গবেষণার প্রধান লেখক লুসিয়া ক্রিভেলি জানান, স্থানীয় সংস্কৃতি ও অভ্যাস অনুযায়ী এই কর্মসূচি সাজানো হয়েছিল, যা একে সাশ্রয়ী ও কার্যকর করে তুলেছে।
ফলাফলে দেখা গেছে, যারা সুশৃঙ্খলভাবে এই লাইফস্টাইল প্রোগ্রাম অনুসরণ করেছেন, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা সাধারণ পরামর্শ পাওয়া দলের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বেশি উন্নত হয়েছে। এছাড়া তাদের স্মৃতিশক্তি, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রসেসিং স্পিডেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
গবেষক দলের মতে, আলঝেইমার্স ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিকের ওপর একসঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি। এই ফলাফল প্রমাণ করে যে, ভৌগোলিক বা সাংস্কৃতিক ভিন্নতা থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা ও সামাজিক সহায়তা পেলে যেকোনো প্রান্তের প্রবীণরাই মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারেন।