লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় কাফার রুমান গ্রামে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতের মধ্যে দুই শিশু এবং চার নারী রয়েছেন। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, ইসরায়েলের এই ‘বিপজ্জনক বৃদ্ধি’ জুন মাসে মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
গত কয়েক দিনে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সর্বশেষ হামলার ঘটনায় কাফার রুমান এলাকায় একটি তিনতলা আবাসিক ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম হামলায় ১১ জন নিহত ও অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইসলামিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের একজন প্যারামেডিকও রয়েছেন।
দ্বিতীয় আরেকটি পৃথক হামলায় প্যারামেডিক বহনকারী একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে আরও একজন নিহত ও দুইজন আহত হন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতের বেলা হামলার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো এবং অস্ত্র স্থানান্তরকারী যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, ইসরায়েলি সৈন্যদের ওপর ড্রোন হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এসব আক্রমণ চালানো হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ হতাহতের অভিযোগটি তারা পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে।
চলমান সংঘাতে গত তিন দিনে দক্ষিণ লেবাননে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না পাওয়া গেলেও সংগঠনটির নেতারা প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।