যুক্তরাজ্যের লন্ডনে এমআরসি ল্যাবরেটরি অব মেডিকেল সায়েন্সেস, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং ইউসিএল জেনেটিকস ইনস্টিটিউটের একদল গবেষক স্তন ক্যানসারের টিউমার নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে নতুন এক তথ্য উন্মোচন করেছেন। তারা জানিয়েছেন, টিউমারের ভেতরে কিছু সুপ্ত বা নিষ্ক্রিয় ক্যানসার কোষ থাকে যা বিশেষ এক সুরক্ষাবলয়ের আড়ালে লুকিয়ে থেকে চিকিৎসা থেকে বেঁচে যায়। এই আবিষ্কারটি ভবিষ্যতে ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন মোড় আনতে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন।
গবেষক দলের প্রধান ড. অ্যালেক্সিস বার জানান, স্তন ক্যানসারের টিউমার অত্যন্ত জটিল একটি পরিবেশ। এখানে দ্রুত বিভাজনকারী কোষের পাশাপাশি কিছু সুপ্ত বা শান্ত কোষ থাকে, যা অনেকটা শীতনিদ্রায় থাকা ভালুকের মতো। এগুলো চিকিৎসার সময় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থেকে বেঁচে যায় এবং পরবর্তীতে আবার সক্রিয় হয়ে শরীরের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে বা টিউমার পুনরায় তৈরি করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই সুপ্ত ক্যানসার কোষগুলোকে ঘিরে রাখে এক ধরনের রোগ প্রতিরোধক কোষ (ইমিউন সেল) এবং সংযোগকারী কলাম বা কানেক্টিভ টিস্যু। গবেষকদের মতে, এই কোষগুলো একটি প্রতিরক্ষামূলক ঢাল বা শিল্ড হিসেবে কাজ করে, যা কেমোথেরাপি বা অন্যান্য চিকিৎসাকে সুপ্ত কোষগুলোর কাছে পৌঁছাতে বাধা দেয়।
জিনোম মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার আগে থেকেই টিউমারের ভেতরে এমন কিছু কোষ থাকে যা পরবর্তী সময়ে চিকিৎসার প্রতি প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারে। ড. মারিয়া সেক্রিয়ার জানান, টিউমারের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের কোষ থাকে, তাই সুপ্ত এবং সক্রিয় দুই ধরনের কোষকেই লক্ষ্য করে চিকিৎসার পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এমন ওষুধ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে যা একই সঙ্গে দ্রুত বর্ধনশীল এবং সুপ্ত কোষগুলোকে ধ্বংস করতে পারবে।