যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল তাদের ওয়ালেট অ্যাপটিতে আইওএস ২৭ আপডেটের মাধ্যমে নতুন ও উন্নত নানা ফিচার যুক্ত করেছে। বর্তমানে এই অ্যাপটি কেবল পেমেন্ট কার্ড সংরক্ষণের মাধ্যম নয়, বরং দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজ সহজ করার একটি ডিজিটাল টুল হিসেবে কাজ করছে। অ্যাপল কর্তৃপক্ষ ব্যবহারকারীদের জন্য ওয়ালেটের সর্বোচ্চ ব্যবহারের ৬টি কৌশলের কথা জানিয়েছে।
কাস্টম পাস তৈরি
অ্যাপল ওয়ালেটে নতুন আপডেটের ফলে ব্যবহারকারীরা এখন নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টম পাস তৈরি করতে পারবেন। জিম ট্যাগ বা সদস্যপদ কার্ডের ছবি তুলে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের সহায়তায় এগুলো ডিজিটালে রূপান্তর করা সম্ভব। এছাড়া এতে নাম, তারিখ বা মেম্বারশিপ নম্বর যুক্ত করার পাশাপাশি পছন্দমতো ব্যাকগ্রাউন্ড বা কালার স্কিম ব্যবহার করা যায়।
অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে বিল ভাগ করা
নতুন ফিচারের কল্যাণে এখন বিলের কাগজের ছবি তুলে সহজেই তা অন্যদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া যাচ্ছে। অ্যাপল ক্যাশ ব্যবহার করে এই সুবিধা পাওয়া যাবে, যেখানে ট্যাক্স এবং টিপসের হিসাবও স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা সম্ভব। এটি স্প্লিটওয়াইজ বা ট্যাবের মতো থার্ড-পার্টি অ্যাপের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দিয়েছে।
ডিজিটাল আইডি ও পাসপোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি অঙ্গরাজ্য এবং পুয়ের্তো রিকোতে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও স্টেট আইডি ডিজিটালভাবে ওয়ালেটে যুক্ত করা যায়। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ডিজিটাল পাসপোর্ট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, যা বিমানবন্দর বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিচয় যাচাইয়ের কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। তবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে এখনো মূল পাসপোর্ট বহন করা জরুরি।
পাবলিক ট্রানজিটে ট্যাপ টু পে
নিউইয়র্ক বা লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো শহরগুলোতে এখন আর শারীরিক কার্ডের প্রয়োজন নেই। এক্সপ্রেস মোড চালুর মাধ্যমে আইফোন বা অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহার করেই গণপরিবহনের ভাড়া পরিশোধ করা যায়। বিশেষ সুবিধাজনক বিষয় হলো, ফোনের ব্যাটারি শূন্য হয়ে যাওয়ার পরও কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত এই সুবিধা সচল থাকে।
চাবিহীন যাতায়াত
অ্যাপল ওয়ালেটে এখন ডিজিটাল কার কি এবং স্মার্ট হোম লকের চাবি সংরক্ষণ করা যায়। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ফোন দিয়েই গাড়ির দরজা খোলা বা ইঞ্জিন চালু করতে পারেন। এছাড়া হোটেল কি, স্টুডেন্ট আইডি এবং অফিসের আইডি ব্যাজও ওয়ালেটে যুক্ত রাখা সম্ভব।
অনলাইন কেনাকাটা ট্র্যাকিং
ইমেইল খুঁজে দেখার ঝামেলা এড়াতে অ্যাপল ওয়ালেটের অর্ডার সেকশন ব্যবহার করা যায়। এতে অ্যাপল মেইল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ করে পণ্য পৌঁছানোর সময় ও ট্র্যাকিংয়ের হিসাব দেখানো হয়। কোনো সমস্যা হলে সরাসরি মার্চেন্টের সাথে যোগাযোগের ব্যবস্থাও এতে রয়েছে।