সার্বিয়ায় ঘটা করে পালিত হলো ‘বসনিয়ার কসাই’ রাতকো ম্লাদিচের শেষকৃত্য

September 8, 2026

সার্বিয়ার বেলগ্রেডে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়ে বসনিয়ার যুদ্ধাপরাধী হিসেবে পরিচিত রাতকো ম্লাদিচের শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছেন। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের কারাগারে যাবজ্জীবন সাজা ভোগরত অবস্থায় ৮৪ বছর বয়সে ম্লাদিচের মৃত্যু হয়। ১৯৯৫ সালের শ্রিব্রেনিৎসা গণহত্যার দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, যেখানে প্রায় ৮ হাজার বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও কিশোরকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ নৃশংসতা হিসেবে বিবেচিত এই হত্যাকাণ্ডের কারণে তিনি ‘বসনিয়ার কসাই’ নামে পরিচিত ছিলেন।

ম্লাদিচের শেষকৃত্য নিয়ে ইউরোপের কিছু নেতার আপত্তির মুখে সার্বিয়া সরকার তাদের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে সরে আসে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইইউ বলেছে, রাতকো ম্লাদিচ ছিলেন একজন দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী, যিনি গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের মহিমান্বিত করা ইউরোপীয় মৌলিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। ২০১২ সাল থেকে সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদের জন্য আবেদন করে আসলেও বিষয়টি নিয়ে জটিলতা রয়ে গেছে।

১৯৯০-এর দশকে বসনিয়ার যুদ্ধে বসনীয় সার্ব বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ম্লাদিচ। তখন বসনিয়া-হার্জেগোভিনায় অ-সার্বীয় জনগোষ্ঠীকে বিতাড়িত করতে তার বাহিনী ‘এথনিক ক্লিনজিং’ বা জাতিগত নিধন চালায়। সারায়েভো শহর অবরোধের সময় তার বাহিনীর হামলায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। ২০১১ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর দীর্ঘ নয় বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

তবে আদালতের রায়ের বিপরীতে অনেক সার্বিয়ান নাগরিকের কাছে ম্লাদিচ এখনো একজন জাতীয় বীর হিসেবে বিবেচিত। শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সার্বিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ব্রাতিস্লাভ গাসিচ এবং বিচার মন্ত্রী নেনাদ ভুজিচসহ সরকারের কয়েকজন প্রতিনিধি। সার্বিয়ান অর্থোডক্স চার্চের প্রধান প্যাট্রিয়ার্ক পোরফিরিয়ে শেষকৃত্যের দায়িত্ব পালন করেন।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনেকেই যুদ্ধকালীন ভেটারান এবং ম্লাদিচের ছবি সম্বলিত পতাকা পরিহিত ছিলেন। ম্লাদিচের প্রতি সম্মান জানাতে গত সপ্তাহে তার মরদেহ সরকারি বিমানে করে সার্বিয়ায় ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। এমনকি তার শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য বসনিয়া ও সার্বিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে বিনামূল্যে বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, ম্লাদিচের এই মহিমান্বিতকরণের ঘটনায় অনেকে ব্যথিত হয়েছেন। সারায়েভোর বাসিন্দা জдравকা গভোজদার, যার নয় বছর বয়সী সন্তান ম্লাদিচের বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছিল, তিনি জানান, এমন একজন অপরাধীকে বীরের মর্যাদায় সমাহিত করা সত্যিই ভয়াবহ। বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েলা পেলেডের মতে, সার্বিয়ার মিডিয়া ও শিক্ষাব্যবস্থায় ম্লাদিচের অপরাধের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা হয়নি, যার ফলে অনেকেই তাকে এখনো জাতীয় বীর মনে করেন।

Leave a Comment