ইউক্রেন ও মোলদোভা সীমান্তের স্টারোকোজাচে ক্রসিংয়ে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় দুজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিয়েভ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই সীমান্ত ক্রসিংটি হামলার পর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব প্রতিবেশী মোলদোভাতেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
হামলার ঘটনায় স্টারোকোজাচে ক্রসিংয়ের বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং সীমান্ত পোস্ট এলাকায় ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মোলদোভা সরকারের তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে একজন মোলদোভান চালকও রয়েছেন। মোলদোভার প্রধানমন্ত্রী ভ্যাসিল তোফান জানিয়েছেন, কেবল আগস্ট মাসেই দেশটির ভূখণ্ডে ১৭টি ড্রোন আঘাত হেনেছে, যা আগের বছরের মোট সংখ্যার চেয়েও বেশি। জেলেনস্কি তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই আগ্রাসন থামাতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে রাশিয়ার নোভোরোসিস্ক শহরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। আঞ্চলিক গভর্নর ভেনিয়ামিন কোন্দ্রাতিয়েভ জানিয়েছেন, এই হামলায় অন্তত ২৯ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু আবাসিক ভবন, একটি গির্জা ও একটি প্রাক-স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী গত রাতে ৫৯৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ পাল্লার হামলার প্রবণতা বেড়েছে। এর মধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে, যেখানে যুদ্ধ অবসানের পথ খোঁজার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ মস্কো ও কিয়েভ সফর করে প্রেসিডেন্ট পুতিন ও জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে শান্তি আলোচনার দিনক্ষণ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।