জার্মানির বার্লিনে ফেডারেল পার্লামেন্টে সাক্সোনি-আনহাল্ট রাজ্যে অতি-ডানপন্থী দল এএফডির বিপুল জয়ের রেশ ধরে চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জ এবং দলটির নেত্রী অ্যালিস ওয়েডেলের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। চ্যান্সেলর মের্জ এএফডিকে একটি ধ্বংসাত্মক শক্তি হিসেবে বর্ণনা করে অভিযোগ করেছেন যে, দলটির অভিবাসন নীতি দক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে এক ধরনের জাতিগত নিধনের শামিল।
সাক্সোনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে এএফডি প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যেখানে মের্জের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটদের ভোটের হার অর্ধেকে নেমে এসেছে। পার্লামেন্টে এএফডি নেত্রী অ্যালিস ওয়েডেল অভিযোগ করেন, মের্জের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ব্যর্থ হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। জবাবে মের্জ বলেন, এএফডি রাশিয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়ে জার্মানির জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করেছে।
অভিবাসন ইস্যুতে মের্জ বলেন, জার্মানির প্রতি ছয়জন দক্ষ কর্মীর একজন অভিবাসী। এএফডির প্রস্তাবিত ‘রিমিগ্রেশন’ বা গণ-বহিষ্কার নীতি কার্যকর হলে হাসপাতাল, কেয়ার হোম বা রেস্তোরাঁগুলোর কার্যক্রম অচল হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, এএফডির নীতি গায়ের রঙ ও বংশপরিচয়ের ভিত্তিতে দক্ষ শ্রমিকদের বিতাড়িত করার পরিকল্পনা, যা জাতিগত নিধনের নামান্তর।
তীব্র হট্টগোল ও বাদানুবাদের জেরে বুন্ডেসটাগের প্রেসিডেন্ট জুলিয়া ক্লকনার সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংসদ ভবন কোনো ফুটবল মাঠ নয়। এএফডি নেতারা পাল্টা অভিযোগ করেন যে, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের কারণে জার্মানিতে সহিংসতা বাড়ছে।
নির্বাচনী ফলাফলের প্রভাব
সাক্সোনি-আনহাল্ট রাজ্যে এএফডি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তিনটি আসনের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। ফলে তারা সরকার গঠন করতে পারবে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জার্মানির ১৬টি রাজ্যের কোনোটিতেই কোনো অতি-ডানপন্থী দল ক্ষমতায় আসতে পারেনি। মের্জ দাবি করেছেন, এএফডি কখনোই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না এবং তাদের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির কারণে মূলধারার কোনো দলই তাদের সাথে কাজ করবে না।