যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের স্টারবেস থেকে উৎক্ষেপিত স্টারশিপ ৪০ মহাকাশযানটি উদ্ধার করে পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্পেসএক্সের তথ্য অনুযায়ী, ভারত মহাসাগর থেকে টেক্সাসে এই মহাকাশযানটিকে ফিরিয়ে আনতে কয়েক মাস সময় ব্যয় হবে। মহাকাশযানটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি প্রকৌশলীদের ভবিষ্যতের নকশা উন্নয়নে সরাসরি গবেষণার সুযোগ দেবে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত ২৪ জুলাই টেক্সাসের স্টারবেস থেকে স্টারশিপ ৪০ উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রায় ৬৫ মিনিটের এই সাব-অরবিটাল ফ্লাইটে মহাকাশযানটি ২০টি স্টারলিংক ভি৩ স্যাটেলাইট মহাকাশে স্থাপন করে। এটি ছিল মূলত পে-লোড সিস্টেম পরীক্ষার একটি অংশ। তবে পূর্বের অভিজ্ঞতার বিপরীতে এবার অবতরণের পর মহাকাশযানটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধার প্রক্রিয়া
মহাকাশযানটি প্রায় ২৪ দিন সমুদ্রে ভাসমান ছিল। এরপর ক্রিসমাস আইল্যান্ড উপকূলের কাছে স্পেসএক্সের উদ্ধারকারী দল ‘নরম্যান্ড রেঞ্জার’ জাহাজের সহায়তায় এটিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে ‘ফোর্ট’ নামের একটি বৃহৎ পরিবহন জাহাজের সাহায্যে বিশেষ ক্র্যাডেল ব্যবহার করে মহাকাশযানটিকে জাহাজের ডেকে তোলা হয়। শিপিং বিশেষজ্ঞ সাল মেরকোগলিয়ানো জানিয়েছেন, বড় কার্গো পরিবহনে এই পদ্ধতিটি বেশ প্রচলিত।
টেক্সাসের পথে যাত্রা
মহাকাশযানটিকে টেক্সাসে ফিরিয়ে আনার জন্য কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছে স্পেসএক্স। শিপ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, পরিবহন জাহাজটি উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে টেক্সাসের ব্রাউনসভিল বন্দরে পৌঁছাতে পারে। ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হিট-শিল্ডের নমুনা পরীক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছেন প্রকৌশলীরা। স্পেসএক্সের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে এ ধরনের দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার বদলে মহাকাশযানটিকে সরাসরি টেক্সাসের সদর দপ্তরে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা।