উত্তর কোরিয়ার ইয়ংবিয়ন পারমাণবিক কমপ্লেক্সে একটি নতুন দোতলা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি। এই স্থাপনাটি দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়, যা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
নতুন এই স্থাপনাটি ২৮টি পর্যন্ত সেন্ট্রিফিউজ ক্যাসকেড ধারণ করতে সক্ষম, যা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কাজে ব্যবহৃত হয়। আইএইএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়ংবিয়ন কমপ্লেক্সের পাশাপাশি পিয়ংইয়ংয়ের নিকটবর্তী কাংসন নামক আরেকটি স্থানেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে উত্তর কোরিয়ায় আইএইএ-এর কোনো পরিদর্শক দল নেই, তাই স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংস্থাটি এই তথ্য পেয়েছে।
গত জুন মাসে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এই নতুন পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করেছিলেন। সে সময় কিম তার দেশের পারমাণবিক উৎপাদন সক্ষমতা অনেক বেড়েছে বলে দাবি করেন। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর একটি বড় অংশই গোপন রাখা হয়, যার ফলে এগুলো শনাক্ত করা বা লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত কঠিন।
২০২২ সালে উত্তর কোরিয়া নিজেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে ঘোষণা করে এবং পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ না করার অঙ্গীকার করে। দেশটির বর্তমান পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডারে কয়েক ডজন ওয়ারহেড রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। গত আগস্ট মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিউং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের আলোচনা ও পারমাণবিক সক্ষমতা কমানোর বিষয়ে প্রস্তাব দিলেও পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।