যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কম্পিউটার নিয়মিত রিস্টার্ট দেওয়া নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে যে প্রচলিত ধারণা রয়েছে, তার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে। পিসি নিয়মিত রিস্টার্ট দিলে এটি একটি নতুন সেশন হিসেবে কাজ শুরু করে, যা সিস্টেমের কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। পিসি সচল থাকার সময় বিভিন্ন অ্যাপ, প্রসেস এবং ড্রাইভারের আবর্জনা জমা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে সিস্টেমের ত্রুটি তৈরি করতে পারে। একটি পূর্ণাঙ্গ রিস্টার্ট মেমোরিকে রিফ্রেশ করে এবং অস্থায়ী ম্যালওয়্যার দূর করতে সহায়তা করে।
উইন্ডোজ পিসির ক্ষেত্রে সপ্তাহে অন্তত একবার রিস্টার্ট দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ল্যাপটপ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে কাজ শেষ হওয়ার পর সেটি বন্ধ রাখা বা স্লিপ মোডে রাখা জরুরি। ল্যাপটপ স্লিপ মোডে থাকা অবস্থায় ব্যাগে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ এটি অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে লিনাক্স সিস্টেমের ক্ষেত্রে রিস্টার্টের প্রয়োজনীয়তা তুলনামূলক কম।
উইন্ডোজের ‘ফাস্ট স্টার্টআপ’ ফিচারটি অনেক সময় পূর্ণাঙ্গ রিস্টার্ট বাধাগ্রস্ত করে। শাটডাউন করার সময় এই ফিচারটি কার্নেল স্টেট সেভ করে রাখে, ফলে কম্পিউটারটি পুরোপুরি রিফ্রেশ হয় না। ফাস্ট স্টার্টআপ এড়াতে শাটডাউন করার সময় শিফট কি (Shift key) চেপে ধরা অথবা সরাসরি রিস্টার্ট অপশন ব্যবহার করা ভালো। এছাড়াও কন্ট্রোল প্যানেলের পাওয়ার অপশন থেকে এই ফিচারটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া যায়।
সফটওয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেম আপডেট করার পর কম্পিউটার রিস্টার্ট দেওয়া অপরিহার্য। এটি সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নতুন আপডেটের ত্রুটিগুলো ঠিক করতে সাহায্য করে। তবে এআরএম (ARM) প্রসেসরযুক্ত উইন্ডোজ ডিভাইসের ক্ষেত্রে বারবার রিস্টার্ট দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ এই প্রসেসরগুলো দীর্ঘক্ষণ সচল থাকার জন্য বিশেষভাবে তৈরি। তবে যেকোনো ধরনের কারিগরি সমস্যার ক্ষেত্রে পিসি বন্ধ করে আবার চালু করা প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কার্যকর সমাধান হতে পারে।