পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার রাজধানী বাঞ্জুল ও এর আশপাশের এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি আদামা বারো জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পুরো পশ্চিম আফ্রিকা অঞ্চলই বর্তমানে বিদ্যুৎ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং গাম্বিয়ার জনগণ একা এই অন্ধকারের মুখোমুখি নয়।
গত জুন মাস থেকেই গাম্বিয়ায় চরম বিদ্যুৎ সংকট চলছে। বর্তমান গরমে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিভ্রাটের সময়সীমা ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত দীর্ঘ হচ্ছে। এই পরিস্থিতির জেরে সোমবার রাতে বাঞ্জুলের রাস্তায় নেমে আসেন শত শত মানুষ। তারা টায়ার জ্বালিয়ে ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
ওয়েস্টফিল্ড এলাকায় বিক্ষোভকারীরা জাতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি ‘নাওয়েক’-এর সদর দপ্তরের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় অনেককে ‘বারো নিপাত যাক’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। এছাড়া ফারাতোতে ভাইস প্রেসিডেন্টের বাসভবনের বাইরেও বিক্ষোভ হয়েছে এবং ক্ষমতাসীন দলের কার্যালয়ের ব্যানার ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি আদামা বারো বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জনগণের ভোগান্তির কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকট একটি জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু এবং জরুরি অবস্থা। তবে তিনি সরকারি অবকাঠামো ধ্বংস না করার জন্য বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করে দিয়ে জানান, এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে এবং সংস্কারের জন্য বাড়তি অর্থের অপচয় হবে।
তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আগামী মাসের শেষ নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহ উন্নত হবে। ব্রিকামা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে এবং সোমায় ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া চলতি সপ্তাহে নতুন জেনারেটর পৌঁছানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।
বিদ্যুৎ কোম্পানি নাওয়েকের প্রধান গালো সাইদি জানান, আঞ্চলিক গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ আমদানি হ্রাস পাওয়ায় সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, এ বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক থেকে চাহিদামতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রপতি বারো তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।