দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা, ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ইসরায়েলের

September 9, 2026

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ড ফিলিস্তিনের দখলকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের প্রতি বসতি স্থাপনকারীদের ‘জাতিগত নিধন’ এবং ইসরায়েল সরকারের তা দেখেও না দেখার ভান করার অভিযোগ এনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, এটি সংঘাত নিরসনে যুক্তরাজ্যের নতুন কৌশলের সূচনা, যা শুধু অন্যায়ের প্রতিবাদ নয়, বরং তা কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।

এই ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সার এটিকে ‘জঘন্য মিথ্যা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, যুক্তরাজ্য একটি বৈরী সরকার হিসেবে আচরণ করছে। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া জেরুজালেমে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করা বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ এমপিকে ইসরায়েলে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বসতি সম্প্রসারণে সহায়তাকারী কোম্পানি ও ব্যক্তিদের ওপর বিধিনিষেধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফ্রান্স এবং কানাডাও এই যৌথ উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান রক্ষায় এটি একটি মাইলফলক।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিব্যান্ড সংসদ সদস্যদের বলেন, ইসরায়েল সরকারের মদদপুষ্ট বসতি স্থাপনকারীরা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধনে জড়িত, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। ইসরায়েলের এই সম্প্রসারণবাদী নীতি পশ্চিম তীরে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগ এই সিদ্ধান্তকে ইতিহাসের ভুল দিক বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এটি একটি সার্বভৌম দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তকে ইসরায়েলি ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।

Leave a Comment