ভারতে শিশুদের যৌন নিপীড়নের বিজ্ঞাপন ছড়াচ্ছে মেটা: নতুন প্রতিবেদন

September 9, 2026

ভারতের বিভিন্ন শহরে মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে শিশুদের যৌন নিপীড়নের (সিএসএএম) বিজ্ঞাপন প্রচারের ঘটনা ঘটছে বলে নতুন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা টেক ট্রান্সপারেন্সি প্রজেক্ট (টিটিপি) জানিয়েছে, গত ১০ মাসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক অন্তত ৩৩২টি বিজ্ঞাপন এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ৮৪টি বিজ্ঞাপনই ভারতে প্রচার করা হয়েছে।

এর আগে বিবিসি আই-এর এক অনুসন্ধানে ভারতে ইনস্টাগ্রামে শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক বিজ্ঞাপন প্রচারের বিষয়টি সামনে আসার পর ভারত সরকার মেটাকে এ ধরনের কনটেন্ট ও বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সরকারি সেই নির্দেশের পরেও শুধুমাত্র আগস্ট মাসেই ভারতে অন্তত ৭৮টি এমন আপত্তিকর বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্মটিতে সক্রিয় ছিল। টিটিপির দাবি, তাদের অনুসন্ধানে এমন বেশ কিছু বিজ্ঞাপনের হদিস মিলেছে যা তাদের নজরে আসার পরেও মেটা নিজ প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিশুদের ছবি বিকৃত করে এই বিজ্ঞাপনগুলো তৈরি করা হচ্ছে। এমন একটি বিজ্ঞাপনের বিবরণ দিয়ে টিটিপি জানায়, সেখানে এক কিশোরীর ছবি ব্যবহার করে অত্যন্ত আপত্তিকর যৌন দৃশ্যের অ্যানিমেশন তৈরি করা হয়েছে এবং অডিওতে এআই ব্যবহারকারীদের উৎসাহিত করার মতো বক্তব্য রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে মেটার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা এ ধরনের অপরাধ বা এআই দ্বারা তৈরি শিশু নিপীড়নমূলক কনটেন্ট সহ্য করে না। অপরাধীরা তাদের শনাক্ত এড়াতে প্রতিনিয়ত কৌশল পরিবর্তন করে, যার ফলে প্রযুক্তিগতভাবে তা আটকানো চ্যালেঞ্জিং। মেটা দাবি করেছে, তাদের নজরে আসা অনেক বিজ্ঞাপনই তারা সরিয়ে ফেলেছে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত অ্যাকাউন্টগুলো স্থগিত করেছে।

ভারতে শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট ছড়ানো দণ্ডনীয় অপরাধ। জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেন নামে একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ভুবন রিভু এই ঘটনার প্রতিবাদে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন করেছেন। তার দাবি, মেটা ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ভারতীয় আইন অমান্য করছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর পক্ষ থেকে আইনি সংস্থাকে বাধ্যতামূলকভাবে এই অপরাধীদের তথ্য প্রদানের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তেলেঙ্গানার সাইবার নিরাপত্তা ব্যুরোর পরিচালক শিখা গোয়েল জানান, অপরাধীরা এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে সহজে সরে যাওয়ার কারণে তাদের আইনের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে মেটা বলছে, তারা তাদের সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে, তবে কোনো সিস্টেমই শতভাগ নিখুঁত নয়।

Leave a Comment