যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যাপল তাদের নতুন ও প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন আইফোন ডুও উন্মোচন করেছে। প্রায় ১০ বছর আগে আইফোন এক্স-এর মাধ্যমে স্মার্টফোনের ডিজাইনে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল অ্যাপল, এবার আইফোন ডুও-র হাত ধরে প্রতিষ্ঠানটি আবারও নতুন ধারার সূচনা করল। প্রযুক্তি বিশ্লেষক স্যাম রাদারফোর্ড এই ডিভাইসটিকে গত এক দশকের মধ্যে অ্যাপলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সংযোজন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আইফোন ডুও-তে রয়েছে ৫.৪ ইঞ্চির এক্সটারনাল ওএলইডি ডিসপ্লে এবং ভেতরে ৭.৬ ইঞ্চির ফ্লেক্সিবল ওএলইডি প্যানেল। এর টাইটানিয়াম ফ্রেম এবং আইপি৬৮ রেটিং ফোনটিকে মজবুত ও টেকসই করে তুলেছে। স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এর তুলনায় এর ওজন কিছুটা বেশি হলেও, এর ডিসপ্লে ট্রানজিশন এবং সফটওয়্যারের সাবলীলতা ব্যবহারকারীদের নতুন অভিজ্ঞতা দেবে।
ফোনটির মূল ডিসপ্লেতে ন্যানো টেক্সচার ব্যবহার করা হয়েছে, যা আলোর প্রতিফলন কমিয়ে ফোল্ডিং অংশের ভাঁজ বা ক্রিজকে প্রায় অদৃশ্য করে ফেলে। এছাড়া আন্ডার-ডিসপ্লে ফেসটাইম ক্যামেরা প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ব্যবহারের সময় ক্যামেরাটি দৃশ্যমান হয় না। নিরাপত্তার জন্য সাইড-মাউন্টেড টাচআইডি সেন্সর যুক্ত করা হয়েছে, যা দ্রুত আনলক এবং লেনদেনের জন্য কার্যকর।
ক্যামেরার ক্ষেত্রে এতে রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেল ফিউশন মেইন ক্যামেরা এবং ৪৮ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্স। মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য এতে আইপ্যাড ওএসের আদলে উন্নত ফিচার যুক্ত করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের কাজকে সহজতর করবে। অ্যাপল পেনসিল সাপোর্ট করলেও ডিভাইসটির সঙ্গে এটি ব্যবহারের বিস্তারিত সুযোগ এখনো সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
আইফোন ডুও আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে প্রি-অর্ডার শুরু হবে এবং ২৩ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে পাওয়া যাবে। অ্যাপল ভক্তরা যারা এতদিন অন্যান্য ব্র্যান্ডের ফোল্ডেবল ফোনের অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাজারে আসছে।