ফিলিপাইনের পালাওয়ান প্রদেশের কাছে এমভি জুন অ্যাস্টার ফেরিতে বুধবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ৮৬ জন নিখোঁজ হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটির যাত্রী রোল্যান্ড লারমা জানিয়েছেন, আগুনের শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে প্রাণ বাঁচাতে তিনি সাগরে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হন। উদ্ধারকর্মীরা দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তাকেসহ অনেককে জীবিত উদ্ধার করেছে, যা দেশটির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ নৌ-দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বেঁচে ফেরা যাত্রী রোল্যান্ড লারমা বর্তমানে করোনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বিবিসিকে জানান, ফেরিতে আগুন লাগার পর হুড়োহুড়ির সময় তিনি পড়ে গিয়েছিলেন এবং অন্য যাত্রীদের পায়ের নিচে চাপা পড়ছিলেন। কোনোমতে হামাগুড়ি দিয়ে উঠে তিনি সাগরে ঝাঁপ দেন। লারমা আরও বলেন, পানির নিচে যাওয়ার আগে তিনি নিজের পোশাক ও ব্যাগ ফেলে দেন যাতে ভেসে থাকতে সুবিধা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা সাগরে ভাসার পর উদ্ধারকারী দল তাকে উদ্ধার করে।
ফেরিতে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একজন যাত্রী তাদের জানিয়েছেন যে কার্গো হোল্ডে বিকট বিস্ফোরণের পরই আগুনের সূত্রপাত হয়। জাহাজটিতে বেশ কিছু মোটরসাইকেল, একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি, ফর্কলিফট এবং অন্যান্য পণ্য পরিবহন করা হচ্ছিল।
ফিলিপাইন কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি মঙ্গলবার রাতে ম্যানিলার বেসকো বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় করোনে পৌঁছানোর কথা থাকলেও এর আগেই করোনের মার্সিলা গ্রামের উপকূল থেকে মাত্র ১.২ নটিক্যাল মাইল দূরে এটি অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়ে। আতিয়েনজা শিপিং লাইন্সের মালিকানাধীন এই জাহাজটিতে একশ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন।
নিখোঁজ যাত্রীদের পরিবারগুলো বর্তমানে হাসপাতালের সামনে উৎকণ্ঠার সাথে অপেক্ষা করছে। এনিলিন মাগবানুয়া নামে এক নারী জানান, তার স্বামী মার্লন ওই ফেরিতে ছিলেন এবং এখনো তার কোনো খোঁজ মেলেনি। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, তার দুই বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে তিনি প্রিয়জনের ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে ফেরিতে এখনো আগুন জ্বলছে এবং ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে, যা উদ্ধার তৎপরতায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। বেঁচে ফেরা অনেক যাত্রীই এখনো চরম আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র।