ব্রিটেনের প্রাচীন ডেভিলস অ্যারোসের রহস্য উন্মোচন: পাথর আনা হয়েছিল ১১ মাইল দূর থেকে

September 10, 2026

যুক্তরাজ্যের উত্তর ইংল্যান্ডের বরোব্রিজ এলাকায় অবস্থিত ব্রিটেনের দীর্ঘতম প্রাচীন প্রস্তর সারি ‘ডেভিলস অ্যারোস’ নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্যের সমাধান করেছেন গবেষকরা। কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় চার হাজার বছর আগে নব্যপ্রস্তর যুগ বা ব্রোঞ্জ যুগের শুরুর দিকে প্রাচীন মানুষেরা ২৫ টন ওজনের বিশাল এই পাথরগুলো অন্তত ১৮ কিলোমিটার (১১ মাইল) দূর থেকে বয়ে এনেছিল।

গবেষণা দলের প্রধান ড. অ্যান্থনি ক্লার্ক জানিয়েছেন, পাথরগুলোর উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে তারা সেগুলোর ভূতাত্ত্বিক নমুনা বিশ্লেষণ করেছেন। এতদিন ধারণা করা হতো, পাথরগুলো হয়তো নিকটবর্তী প্লাম্পটন রকস থেকে আনা হয়েছিল। কিন্তু নতুন তথ্য অনুযায়ী, পাথরগুলোর প্রকৃত উৎস নর্থ ইয়র্কশায়ারের ব্রিমহাম রকস।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

ড. ক্লার্কের মতে, পাথরগুলো নিকটবর্তী উৎস থেকে না এনে অনেক দূর থেকে আনার এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে প্রাচীন মানুষেরা পাথর নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিল। তাদের ধারণা, ব্রিমহাম রকসের এলাকাটি প্রাচীন জনবসতির কাছে সাংস্কৃতিক, প্রতীকী বা আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বহন করত। ২৫ টন ওজনের প্রতিটি পাথর পরিবহন করার জন্য যে বিশাল পরিকল্পনা, সমন্বয় ও প্রকৌশল দক্ষতার প্রয়োজন ছিল, তা সে সময়ের মানুষের অসাধারণ সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ।

গবেষণায় ব্যবহৃত পদ্ধতি

গবেষকরা পাথরগুলোর ক্ষতি না করেই এক ধরনের আঠালো টেপ ব্যবহার করে সূক্ষ্ম খনিজ কণা সংগ্রহ করেন। এরপর সেই খনিজগুলোর বয়স পরীক্ষা করে ব্রিমহাম রকসের ভূতাত্ত্বিক নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে পাথরগুলো সেখান থেকেই সংগৃহীত। গবেষক ড. জিম লেরি বলেন, এই আবিষ্কার প্রাচীন মানুষের চিন্তাধারা এবং তাদের বিশ্বাস ব্যবস্থার ওপর নতুন আলোকপাত করেছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

গবেষক দলটি এখন তাদের উদ্ভাবিত এই অ-আক্রমণাত্মক পদ্ধতি ব্যবহার করে অন্যান্য প্রাচীন প্রস্তর কাঠামোর উৎস অনুসন্ধানের পরিকল্পনা করছে। তারা বিশ্বাস করেন, ডেভিলস অ্যারোসের মতো অন্যান্য স্মৃতিস্তম্ভগুলো কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং সেগুলোর উৎস কী ছিল, তা জানা সম্ভব হলে মানব ইতিহাসের এই অজানা অধ্যায় আরও স্পষ্ট হবে। স্থানীয় কমিউনিটির কাছে অত্যন্ত প্রিয় এই স্মৃতিস্তম্ভটির ইতিহাস নিয়ে নতুন এই তথ্য যোগ হওয়ায় ঐতিহাসিকরা আশাবাদী।

Leave a Comment