কম্পিউটারের বিদ্যুৎ খরচ অর্ধেক কমাতে সক্ষম নতুন ন্যানোলেজার

September 11, 2026

ডেনমার্কের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডিটিইউ)-এর গবেষকরা অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি ন্যানোলেজার উদ্ভাবন করেছেন, যা ভবিষ্যতে কম্পিউটার, স্মার্টফোন এবং ডেটা সেন্টারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারে। সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, চিপের ভেতরে বৈদ্যুতিক সংকেতের বদলে আলোক কণা বা ফোটন ব্যবহারের মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদান সম্ভব হবে।

বর্তমানে ইন্টারনেটের বিশাল তথ্য আদান-প্রদান ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে আলোর গতিতেই হয়। তবে কম্পিউটারের ভেতরের সার্কিটে এখনো বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়, যা থেকে তাপ উৎপন্ন হয় এবং ডেটা স্থানান্তরের গতি সীমিত হয়ে পড়ে। নতুন এই ন্যানোলেজারটি কম্পিউটারের প্রসেসরের ভেতরেই আলোর মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ তৈরি করবে, যা ডিভাইসের গতি বাড়িয়ে তাপ এবং শক্তির অপচয় কমাবে।

ডিটিইউ-এর অধ্যাপক জেসপার মর্ক জানান, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম্পিউটারের বিদ্যুৎ খরচ প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনা সম্ভব। ভবিষ্যতে একটি মাত্র মাইক্রোচিপে হাজার হাজার ন্যানোলেজার যুক্ত করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম তৈরি করা যাবে। এছাড়া চিকিৎসা বিজ্ঞানেও এই লেজারের অতি ক্ষুদ্র পরিসরে আলো কেন্দ্রীভূত করার সক্ষমতা ব্যবহার করে নিখুঁত বায়োসেন্সর এবং উচ্চ রেজোলিউশনের ইমেজিং সিস্টেম তৈরি করা সম্ভব হবে।

গবেষকদের মতে, এই ন্যানোলেজার তৈরির ক্ষেত্রে সাধারণ লেজারের আকারের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করা হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর মেমব্রেনের ভেতর ন্যানোক্যাভিটি নামক একটি কাঠামোর মাধ্যমে আলো এবং ইলেকট্রনকে একই ক্ষুদ্র জায়গায় আটকে রাখা হয়। এতে কক্ষ তাপমাত্রায় অত্যন্ত কম শক্তি ব্যবহার করেই লেজারটি কার্যকর থাকে।

বর্তমানে এই প্রযুক্তির পরবর্তী ধাপ হলো এটিকে বৈদ্যুতিক শক্তির মাধ্যমে সরাসরি পরিচালনা করা। গবেষকরা আশা করছেন, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা সম্ভব হবে।

Leave a Comment