যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইবিএম যৌথভাবে চাঁদের গবেষণার জন্য একটি উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল তৈরি করেছে। আইবিএম রিসার্চ ইউরোপের পরিচালক ড. হুয়ান বার্নাবে-মোরেনোর ভাষ্যমতে, এই ওপেন-সোর্স মডেলটি চাঁদের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ এবং ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য শনাক্তে বিজ্ঞানীদের সহায়তা করবে, যা ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও পরীক্ষা
এই এআই মডেলটি বিশেষ করে চাঁদের উপরিভাগে বরফের অবস্থান শনাক্ত করতে অত্যন্ত কার্যকর। প্রচলিত ইমেজ অ্যানালাইসিস টুল ‘সুইনভি২-বি’ (SwinV2-B)-এর সাথে তুলনা করে দেখা গেছে, নাসা ও আইবিএমের এই মডেলটি ত্রুটির হার ২৩ শতাংশ কমিয়ে এনেছে। এছাড়া গহ্বর (ক্রেটার) শনাক্ত ও শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রেও এটি আগের যেকোনো টুলের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি নির্ভুল ফলাফল দিয়েছে। গত ৫ আগস্ট স্পেসএক্স ফ্যালকন ৯ রকেটের আঘাতে চাঁদে সৃষ্ট নতুন গহ্বরটিও এই মডেল নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
গবেষণার চ্যালেঞ্জ ও সমাধান
চাঁদের পরিবেশের ছবি তোলার ক্ষেত্রে ছায়া একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল আলোর বিচ্ছুরণ ঘটায় বলে ছায়ার মধ্যেও কিছু তথ্য থাকে, কিন্তু চাঁদের ছায়া একেবারেই ঘুটঘুটে কালো এবং ধারালো। এই সমস্যার সমাধানে গবেষকরা চাঁদকে কমলালেবুর মতো বিভিন্ন অংশে (ওয়েজ) ভাগ করে মডেলটিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এতে মডেলটি চাঁদের ভূ-প্রকৃতি সম্পর্কে আরও সুসংগত ধারণা পেয়েছে।
উন্মুক্ত ডেটাসেট
গবেষণার প্রসারের লক্ষ্যে নাসা ও আইবিএম একটি বিশাল ওপেন-সোর্স ডেটাসেট উন্মুক্ত করেছে, যা অন্যান্য গবেষকরাও ব্যবহার করতে পারবেন। এতে নাসা ও জাপানের মহাকাশ মিশনের লুনার রিকনাসেন্স অরবিটার (LRO), গ্রাভিটি রিকভারি অ্যান্ড ইন্টেরিয়র ল্যাবরেটরি (GRAIL) এবং সেলেনের (SELENE) সংগ্রহ করা ২০ লাখেরও বেশি ডেটা পয়েন্ট রয়েছে। এই ডেটাসেটটি ভবিষ্যতে আরও উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল তৈরির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।