লেবাননের দক্ষিণ অঞ্চলের আলি তাহের রিজ এলাকায় হিজবুল্লাহর একটি শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ সামরিক কমপ্লেক্স ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) তথ্যমতে, প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সুড়ঙ্গ উড়িয়ে দিতে ১০০০ টনেরও বেশি বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে। এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট কম্পন ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য ছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে।
গত মার্চ মাস থেকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বেশ বড় একটি এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এর অংশ হিসেবেই গত সপ্তাহে এই রিজটির দখল নেয় তারা। আইডিএফ জানিয়েছে, ধ্বংস হওয়া এই কমপ্লেক্সে হিজবুল্লাহর বদর ইউনিটের কমান্ড সেন্টার ছিল। সেখানে বিপুল পরিমাণ রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, মাইন ও বিস্ফোরক মজুত ছিল। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইরানের অর্থায়নে ও পরিকল্পনায় দুই দশক ধরে এই কৌশলগত অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল।
এই বিস্ফোরণের প্রভাব পড়েছে সুদূর নাবতিয়াহ ও সাইদা শহর পর্যন্ত। নাবতিয়াহের বাসিন্দা আহমেদ জানান, প্রচণ্ড শব্দে ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছিল এবং মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বৈরুতের দিকে ছুটতে শুরু করে। আইডিএফের দাবি, এই অভিযানের মাধ্যমে আটটি সুড়ঙ্গ ধ্বংসের মিশন সম্পন্ন হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে জুনে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান এবং বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ বলছে, সংঘাতের কারণে লেবাননের প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ এখনো বাস্তুচ্যুত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ৪ হাজার ৩৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। তবে হিজবুল্লাহ বা লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে সর্বশেষ এই ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।