গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাউথ-উবাঙ্গি প্রদেশে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। প্রদেশটির ভারপ্রাপ্ত গভর্নর জ্যঁ-রেনে গালেকওয়া ভুনদাওয়ে শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ও কঙ্গো-ব্রাজাভিলের সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে ভাইরাসের বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কিনশাসায় অবস্থিত দেশটির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর বায়োমেডিকেল রিসার্চের প্রধান জ্যঁ-জ্যাক মুয়েম্বে জানান, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এক ব্যক্তির শরীরে ইবোলার ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেনটি পাওয়া গেছে। এর আগে দেশটির ছয়টি প্রদেশে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছিল। তবে সাউথ-উবাঙ্গিতে স্থানীয় পর্যায়ে সংক্রমণ ছড়ানোর বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
গভর্নরের তথ্যমতে, আক্রান্ত ওই ব্যক্তি চোফো প্রদেশের রাজধানী কিসাঙ্গানি থেকে নদীপথে সাউথ-উবাঙ্গিতে এসেছিলেন। এর আগে তিনি রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং ইতুরি প্রদেশের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করেন। ওই রোগীর সংস্পর্শে আসা ৩৮ জনকে ইতিমধ্যে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৯৪২ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৩ হাজার ৩৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি কঙ্গোর ইতিহাসে ইবোলার সবচেয়ে মারাত্মক প্রাদুর্ভাব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে, এই প্রাদুর্ভাব এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং এটি পশ্চিম আফ্রিকার ২০১৪-২০১৬ সালের মহামারির ভয়াবহতাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে ইবোলার এই ‘বুন্দিবুগিও’ ভ্যারিয়েন্টের জন্য কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। তবে বিভিন্ন চিকিৎসা ও টিকার পরীক্ষা চলমান রয়েছে। দুর্বল স্বাস্থ্য অবকাঠামো, দুর্গম অঞ্চল এবং সীমান্ত এলাকায় চলমান সংঘাতের কারণে ইবোলা মোকাবিলায় বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।