যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামিতে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিমানটি রানওয়ে অতিক্রম করার আগে পাইলট বারবার অতিরিক্ত গতির বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু অন্য পাইলট থেকে তেমন কোনো কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি। এই দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
তদন্তকারী সংস্থা এনটিএসবির তথ্য অনুযায়ী, বোয়িং ৭৬৭-৩০০ মডেলের বিমানটি ১৫৮ নট বা ২৯২ কিলোমিটার গতিতে রানওয়েতে অবতরণের চেষ্টা করছিল, যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডিংয়ে দেখা গেছে, বিমানটি অবতরণের চূড়ান্ত মুহূর্তে উচ্চতা এবং গতি সংক্রান্ত একাধিক স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও তা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এভিয়েশন আইন বিশেষজ্ঞ পাবলো রোজাস জানিয়েছেন, ফ্লাইটের ফ্ল্যাপগুলো বেশ দেরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল, যা বিমানটিকে গতি কমিয়ে অবতরণে সহায়তা করার কথা ছিল। সম্ভবত বিমানটি অতিরিক্ত দ্রুতগতির কারণে পাইলটরা সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত দুর্ঘটনা ডেকে আনে।
রানওয়ে অতিক্রম করার পর অ্যামাজন প্রাইম এয়ার ফ্লাইট ৭৫৯৮ বিমানটি মাটিতে থাকা বিভিন্ন সরঞ্জামে আঘাত করে। এরপর এটি একটি ফোর্ড ভ্যান এবং একটি টয়োটা করোলায় ধাক্কা দিয়ে সীমানা প্রাচীর ভেঙে প্রায় ১৩০০ ফুট দূরে গিয়ে থেমে যায়। এই দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনই ভ্যানে থাকা বিমান পরিষ্কারকারী দলের সদস্য ছিলেন। মায়ামি কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেছে, যাদের বয়স ৪৭ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে।