সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বারবার হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সৌদির জ্বালানি অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা স্থাপনায় হামলার পাশাপাশি হুথিরা মোখা বন্দর দখল করে বাব আল-মানদেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার হুমকি দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হলে পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সাড়া দিতে বাধ্য থাকবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ।
মক্কা চুক্তির পটভূমি
যুক্তরাষ্ট্র এখন আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেরাই নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মিলে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। রিয়াদে এর যৌথ সচিবালয় অবস্থিত এবং বর্তমানে এর সভাপতিত্ব করছে পাকিস্তান। তবে এই চুক্তির অধীনে সদস্য দেশগুলো ঠিক কোন পরিস্থিতিতে সরাসরি সামরিক অভিযানে নামবে, তার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এখনো তৈরি হয়নি।
পাকিস্তানের অবস্থান ও তুরস্কের দৃষ্টিভঙ্গি
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, সৌদি আরবে কোনো উস্কানিমূলক আগ্রাসন চালানো হলে বা ইয়েমেন যুদ্ধের আঁচ সৌদিতে ছড়িয়ে পড়লে মক্কা চুক্তি কার্যকর হবে। তবে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান স্পষ্ট করেছেন, ন্যাটোর মতোই কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে তাদের নির্দিষ্ট সাহায্যের জন্য অনুরোধ জানাতে হবে। সেই অনুরোধ অনুযায়ী সাহায্য প্রদান করা হবে। এখন পর্যন্ত সৌদি আরব এই চুক্তির অধীনে কোনো দেশকেই সরাসরি সহায়তার আহ্বান জানায়নি।
ভবিষ্যৎ করণীয়
বর্তমানে পাকিস্তান ও তুরস্ক কূটনৈতিকভাবে ইরানকে হুথিদের নিবৃত্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা কম। কারণ পাকিস্তান অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা মাথায় রেখে বড় কোনো সংঘাতে জড়াতে সতর্ক। এর পরিবর্তে ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত সহায়তা বৃদ্ধি এবং বাব আল-মানদেব প্রণালীর সুরক্ষায় বহুজাতিক নৌ-জোট গঠনের ওপর জোর দিতে পারে।