যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। সেদিনের সেই ভয়াবহ হামলা বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নীতিকে আমূল বদলে দিয়েছিল। বিবিসির নিরাপত্তা বিষয়ক সংবাদদাতা ফ্র্যাঙ্ক গার্ডনারের মতে, সে সময় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে তথ্য থাকলেও তা সঠিকভাবে যাচাই বা সমন্বয় করতে না পারার চরম খেসারত দিতে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রকে। ওই ঘটনায় ২,৯৭৭ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান।
গোয়েন্দা ব্যর্থতা ও সংস্কার
৯/১১ কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের অভাব এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবনে ব্যর্থতাই ছিল ওই ট্র্যাজেডির মূল কারণ। তবে গত ২৫ বছরে এই অবস্থার অনেকটা উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে কাউন্টার টেরোরিজম অপারেশন সেন্টারের মতো সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে এমআই৫ এবং পুলিশের গোয়েন্দারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রেও ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
ইরাক যুদ্ধ ও কৌশলগত ভুল
এতকিছুর পরেও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বড় ধরনের ভুল করেছে। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের আগে এমআই৬ ভুল ও যাচাইবিহীন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার দাবি করেছিল, যা পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এছাড়া ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে লন্ডন বোমা হামলা এবং ২০১৭ সালে ম্যানচেস্টার অ্যারেনা হামলার মতো ঘটনাগুলো গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছিল।
পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
সাবেক এমআই৬ প্রধান স্যার অ্যালেক্স ইয়াঙ্গার জানান, গত দুই দশক পশ্চিমা বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ দমনে এতটাই ব্যস্ত ছিল যে চীন ও রাশিয়ার মতো সামরিক শক্তির উত্থানকে তারা গুরুত্বের সাথে নেয়নি। বর্তমানে চীন, রাশিয়া ও ইরানের কাছ থেকে আসা রাষ্ট্রীয় হুমকিগুলো বড় ধরনের জাতীয় নিরাপত্তার সংকটে পরিণত হয়েছে।
মানবাধিকার ও নৈতিকতা
হামলার পরপরই সন্ত্রাস দমনে পশ্চিমা দেশগুলো অনেক ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গুয়ানতানামো বে কারাগারে বিনা বিচারে বন্দি রাখা এবং বন্দিদের প্রতি অমানবিক আচরণের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যও লিবীয় ভিন্নমতাবলম্বীদের গোপনে হস্তান্তরের মতো ঘটনায় জড়িয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
২৫ বছর পর আজ বিশ্ব এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, কেবল উন্নত প্রযুক্তি থাকলেই হবে না, বরং গোয়েন্দা তথ্যের সঠিক কৌশলগত প্রয়োগই ভবিষ্যতে বড় বিপর্যয় এড়ানোর একমাত্র পথ।