আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিচেল মার্টিনের সঙ্গে এক বৈঠকে মন্তব্য করেছেন যে, আয়ারল্যান্ড ঐক্যবদ্ধ হলে তা হবে ‘চমৎকার’। দুই দিনের সফরে আয়ারল্যান্ডে অবস্থান করছেন ট্রাম্প। ডাবলিনে আইরিশ প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনোলির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর তিনি কাউন্টি ক্লেয়ারে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আমজেন আইরিশ ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে যোগ দিতে রওনা হন।
ট্রাম্পের মতে, ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড একসময় বাস্তবায়িত হবে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এই প্রক্রিয়ার জন্য সঠিক ব্যক্তি। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সফরের বিরুদ্ধে ডাবলিনের রাস্তায় দশ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
ফামলেই হাউসে আয়োজিত বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, আয়ারল্যান্ডের ঐক্যবদ্ধ হওয়াটা দারুণ একটি বিষয় হবে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের ভূমিকার কথা উল্লেখ করলেও তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, এটি কীভাবে ক্ষতিকর হতে পারে। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সরকার গুড ফ্রাইডে চুক্তিতে শতভাগ অটল রয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান হলো, যখন আয়ারল্যান্ডে জনমত পরিবর্তনের স্পষ্ট ঐকমত্য তৈরি হবে, কেবল তখনই সীমান্ত গণভোটের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মিচেল মার্টিনের একজন মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে অবাক হওয়ার কিছু নেই, কারণ তিনি সবসময়ই আয়ারল্যান্ডের ঐক্যের বিষয়টিকেই ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন।
তবে এই মন্তব্য নিয়ে উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। সিন ফেইন নেত্রী মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়টি স্বীকার করলেও, এর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়ভার আইরিশ সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) নেতা গ্যাভিন রবিনসন স্পষ্ট করেছেন যে, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ লন্ডন, ডাবলিন বা ওয়াশিংটনের মন্তব্যে নয়, বরং স্থানীয় জনগণের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
বৈঠকের এক পর্যায়ে আইরিশ প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনোলি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধ ও গণহত্যার স্বাভাবিকীকরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে সরাসরি বার্তা দিয়েছেন। আয়ারল্যান্ডে ট্রাম্পের সফর ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বড় নিরাপত্তা অভিযানের অংশ। ট্রাম্পের এই সফরকে ঘিরে ডাবলিন ও ডুনবেগের রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মূলত ইসরায়েল-গাজা সংঘাত নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার প্রতিবাদে এসব বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।