কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে ছোট ব্যবসায় নিয়োজিত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর কঠোর ধরপাকড়ের নির্দেশে ব্যাপক আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট রুটো গত সপ্তাহে দেশটির স্টেট হাউসে ব্যবসায়ীদের এক সমাবেশে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই কড়াকড়ির ঘোষণা দেন। এর ফলে হাজারো বিদেশি নাগরিক, যারা এতদিন দেশটিতে নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন, তারা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
নাইরোবিতে অবস্থানরত বুরুন্ডির নাগরিক এবং টুকটুক চালক এনদাইকেচ আলি বলেন, তিনি গত নয় বছর ধরে কেনিয়াকে নিজের মতো করে ভালোবেসে কাজ করছেন। কিন্তু প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পর স্থানীয়দের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তাকে মনে হচ্ছে যেন কারো ওপর লেলিয়ে দেওয়া কুকুর লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট রুটো নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, যেসব বিদেশি নাগরিক ছোটখাটো ব্যবসা করছেন, তাদের ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হবে। এই ঘোষণাকে অনেকে বিদেশিদের বিরুদ্ধে বৈরী আচরণের সংকেত হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এর প্রভাবে অনেক বিদেশি নাগরিক তাদের ব্যবসা বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পারিবারিক বিচ্ছেদ ও অর্থনৈতিক সংকট
এই ধরপাকড়ের কারণে অনেক মিশ্র পরিবারের সদস্যরা এখন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। গ্রেস ওয়ামাইথা নামের এক কেনিয়ান নারী জানান, তার বুরুন্ডি থেকে আসা স্বামী প্রেসিডেন্টের নির্দেশের পরদিনই দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। স্বামীর অনুপস্থিতিতে পাঁচ সন্তানকে নিয়ে তিনি চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন এবং স্কুল ফি জোগানো নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও সরকারি অবস্থান
প্রেসিডেন্টের এই বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বুরুন্ডির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে এবং একে বিদ্বেষপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেনিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা কোরিন সিং’ওই বুরুন্ডির দূতাবাসে গিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন এবং বিদেশিদের সুরক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন।
পরবর্তীতে সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈধ কাগজপত্রহীন বিদেশিদের ছোট ব্যবসা নিবন্ধনের জন্য ৯০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই নিবন্ধনের সময়সীমার মধ্যে তাদের বৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে সমালোচকদের মতে, প্রেসিডেন্ট রুটোর এই ধরনের পপুলিষ্ট বা জনতুষ্টিমূলক পদক্ষেপ কেনিয়ার অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থনীতিবিদ ওডিয়াম্বো রামোগির মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর এই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের ফলে কেনিয়ার অর্থনীতির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।