ফ্রান্সের উত্তরের নর্মান্ডি অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড রয়েছে কি না, তা তদন্ত করছেন ফরাসি কর্মকর্তারা। শুক্রবার সন্ধ্যায় রুয়েন ও কানের মাঝামাঝি এলাকায় এই দুর্ঘটনার পর শনিবার সরকারি কৌঁসুলি সেবাস্টিয়ান গালো জানান, ট্রেনের লাইনের ওপর কোনো ধাতব বস্তু পড়ে থাকার কারণে লাইনচ্যুতির প্রাথমিক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে এই বস্তু কীভাবে সেখানে এল, তা এখনো অজানা।
দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসার বিবরণ
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় পড়া ট্রেনটিতে ১৮৬ জন যাত্রী ছিলেন। ঘটনার পরপরই প্রায় ১৪০ জন দমকলকর্মী ও জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এতে ৪৪ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বিমানে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কৌঁসুলি গালো জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই তরুণীর জীবন বিপদমুক্ত এবং বাকি আহতদের চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বা ছাড়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তদন্ত প্রক্রিয়া ও চালকের অবস্থা
তদন্তের অংশ হিসেবে ট্রেনের ‘ব্ল্যাক বক্স’ জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে এবং আদালতের নির্দেশে একজন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হয়েছে। রুয়েনের সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে, ট্রেন চালকের মাদক ও অ্যালকোহল পরীক্ষা করা হয়েছে, যার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।
যাত্রীদের অভিজ্ঞতা
ফ্রান্সের স্থানীয় রেডিওতে দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে লুই নামে এক যাত্রী জানান, হঠাৎ করেই ট্রেনটিতে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি শুরু হয়। তিনি জানান, জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ার পাশাপাশি লাইন থেকে পাথর ভেতরে চলে আসছিল, যা অত্যন্ত আতঙ্কজনক ছিল।