যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফেডারেল আপিল আদালত মিশিগানের ওয়েস্ট অলিভে অবস্থিত জে এইচ ক্যাম্পবেল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু রাখার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা জরুরি আদেশ বাতিল ঘোষণা করেছে। আদালতের তিন বিচারপতির প্যানেল সর্বসম্মতভাবে এই রায় দেয়। এতে বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কার্যক্রম সচল রাখতে জ্বালানি বিভাগ যে জরুরি ক্ষমতার প্রয়োগ করেছিল, তা আইনবহির্ভূত ছিল। এর মাধ্যমে পুরোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ
ফেডারেল পাওয়ার অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখতে জরুরি ক্ষমতার প্রয়োগ করা যাবে শুধু তখনই, যখন এটি একান্তই শেষ উপায় হিসেবে বিবেচিত হয় এবং স্থানীয়ভাবে বা রাজ্য পর্যায়ে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব হয় না। বিচারক কর্নেলিয়া পিলার্ড তার রায়ে উল্লেখ করেন, ৬৪ বছর বয়সী এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির অবসর গ্রহণের পরিকল্পনা দীর্ঘ সময় ধরে করা হয়েছিল, যা হঠাৎ করে পরিবর্তন করা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত ২৫৯ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যার দায় শেষ পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রেক্ষাপট
কনজিউমার্স এনার্জি কর্তৃক পরিচালিত জে এইচ ক্যাম্পবেল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০২৫ সালের মে মাসে বন্ধ হওয়ার কথা ছিল। তবে জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সেন্টারের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা উল্লেখ করে গত বছর ট্রাম্পের জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থার আদেশের আওতায় এটিকে চালু রাখার নির্দেশ দেন। মিশিগানের অ্যাটর্নি জেনারেল ডানা নেসেল আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে এটিকে বাস্তবতা বিবর্জিত আদেশের ওপর চপেটাঘাত বলে অভিহিত করেছেন।
পরবর্তী পরিস্থিতি
জ্বালানি বিভাগ তাদের অবস্থান বজায় রেখে দাবি করেছে, বিদ্যুৎ সংকট এড়াতে এবং তীব্র শীতকালে ব্ল্যাকআউট রোধে এই আদেশ সহায়ক ছিল। আদালতের এই রায়ের পর কনজিউমার্স এনার্জি বিষয়টি পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে। এদিকে, মিশিগানের এই মামলার পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সেন্ট্রালিয়া, ইন্ডিয়ানা, কলোরাডো, ফ্লোরিডা এবং পেনসিলভানিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও একই ধরনের আইনি লড়াই চলছে। তবে রায়ের কয়েক ঘণ্টা পরই জ্বালানি সচিব রাইট ওয়াশিংটনের সেন্ট্রালিয়ায় একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখতে নতুন করে জরুরি আদেশ জারি করেছেন।