যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি কর্তৃক পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, হার্টের ধমনিতে ক্যালসিয়াম জমার জনপ্রিয় সিটি স্ক্যান সব রোগীর জন্য সমান কার্যকর নয়। কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নীলে শাহ জানান, হৃদরোগের ঝুঁকি নিরূপণে সবার জন্য এই পরীক্ষার প্রয়োজন নেই।
গবেষণায় ছয় হাজারেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর ১০ বছর ধরে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে দেখা গেছে, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের স্ট্যান্ডার্ড রিস্ক ক্যালকুলেটর ‘প্রিভেন্ট’ (PREVENT) দিয়ে যারা খুব কম বা খুব বেশি ঝুঁকিতে আছেন বলে চিহ্নিত হন, তাদের জন্য ক্যালসিয়াম স্ক্যান বাড়তি তেমন কোনো সুবিধা দেয় না। তবে যারা ঝুঁকির মাঝামাঝি বা বর্ডারলাইন অবস্থানে আছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই স্ক্যানটি হৃদরোগের সম্ভাবনা শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ড. নীলে শাহের মতে, কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই স্ক্যান করালে অযথা বিকিরণ বা রেডিয়েশনের ঝুঁকি এবং খরচ বাড়ে। অন্যদিকে, যারা উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন, ক্যালসিয়াম স্ক্যানের ফলাফল যাই হোক না কেন তাদের এমনিতেই কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ বা স্ট্যাটিন সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়। তাই এই ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা কম।
গবেষক দলটি জানায়, যারা হৃদরোগের ঝুঁকিতে আছেন কি নেই তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম স্কোর চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে, বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় ও ফিলিপিনো জনগোষ্ঠীর ওপর। এই গবেষণার ফলাফল গত ২৬ আগস্ট জ্যামা (JAMA) জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।