বুলগেরিয়ায় অস্ত্র গুদামে অগ্নিকাণ্ড, নাশকতার অভিযোগ মালিকপক্ষের

September 13, 2026

বুলগেরিয়ার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের গোর্নি ভারপিশতা গ্রামের কাছে একটি ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষা কোম্পানির গোলাবারুদ সংরক্ষণাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ডেমেরজিভ জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কোনো ধরনের বাহ্যিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করছে না। অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটেছে।

ইমকো নামের ওই কোম্পানিটি ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি পরিকল্পিত নাশকতা এবং মানবসৃষ্ট কোনো ত্রুটির কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেনি। তবে তারা নির্দিষ্ট করে কাউকে দায়ী করেনি। রাজধানী সোফিয়া থেকে ১৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গুদামটি কয়েক মাস ধরে অব্যবহৃত ছিল। মাত্র ২০ দিন আগে গুদামটিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়েছিল।

২০১১ সাল থেকে বুলগেরিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পে এ ধরনের একাধিক নাশকতামূলক ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইমকো। কোম্পানিটির মালিক এমিলিয়ান গেব্রেভ দাবি করেছেন, বুলগেরিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের বিরুদ্ধে চলমান নাশকতার এটিই সর্বশেষ ঘটনা। ইইউ ও ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে বুলগেরিয়াকে সম্মিলিত উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

এমিলিয়ান গেব্রেভ অতীতেও রুশ এজেন্টদের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন বলে বুলগেরিয়ার কৌঁসুলিরা অভিযোগ করে আসছেন। ২০১৫ সালে গেব্রেভ, তার ছেলে ও কোম্পানির আরেক কর্মীকে বিষপ্রয়োগের ঘটনায় তিনজন রুশ নাগরিকের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে বুলগেরিয়া কিয়েভের কাছে অস্ত্র সরবরাহকারী অন্যতম প্রধান দেশে পরিণত হয়। যদিও বুলগেরিয়া সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ রেখেছে, তবে বেসরকারি কোম্পানিগুলো এখনো ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠাচ্ছে। ইউরোপজুড়ে সম্প্রতি এ ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার পেছনে রাশিয়ার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন দেশ থেকে।

Leave a Comment