যুক্তরাষ্ট্রের গোপন ট্রাইব্যুনালে প্রথমবার সাজা: আফগান নারীকে বহিষ্কার

September 13, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট ওর্থ শহরে বসবাসকারী নাজীরা হাজি জাদা নামের এক আফগান নারীকে নিজ দেশে বহিষ্কার করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ এবং তার আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, গোপনীয়তা বজায় রাখা বিশেষায়িত আদালত ‘এলিয়েন টেররিস্ট রিমুভাল কোর্ট’-এ মামলা চলাকালীন তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে দেশত্যাগ করাকেই বেছে নিয়েছেন। ১৯৯৬ সালে এই আদালত গঠিত হলেও জুলাই মাসে এই প্রথম কোনো মামলায় বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হলো। মূলত যেসকল অ-মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গোপন প্রমাণের ভিত্তিতে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়, তাদের বিচারের জন্যই এই আদালতের সৃষ্টি।

মামলার পটভূমি
আফগানিস্তানের নাগরিক ৪৭ বছর বয়সী নাজীরা হাজি জাদার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি। তবে তার ছেলে আবদুল্লাহ হাজি জাদা এবং জামাতা নাসির আহমদ তাওয়াহেদ ২০২৪ সালের নির্বাচন দিবসে ইসলামিক স্টেটের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ব্যাপক গোলাগুলির ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, নাজীরা হাজি জাদা তার পরিবারকে কট্টরপন্থী করে তোলার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছেন এবং তিনি তাদের গ্রুপের ‘ম্যাট্রিয়ার্ক’ বা নেত্রী হিসেবে কাজ করেছেন।

বিচার ও আইনি বিতর্ক
শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নাজীরা হাজি জাদা নিজেকে একজন ‘এলিয়েন টেররিস্ট’ হিসেবে স্বীকার করে বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আপিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ একে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় বিজয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অধিকার নেই এবং এই আদালতের ব্যবহার প্রমাণ করে যে দেশ রক্ষায় সব ধরনের আইনি উপায় ব্যবহার করা হবে।

তবে নাজীরা হাজি জাদার জন্য নিযুক্ত পাবলিক ডিফেন্ডার ম্যাথু ফার্লি এবং মেরি ম্যানিং পেত্রাস জানিয়েছেন, তাদের মক্কেলকে মামলার স্বপক্ষে উপস্থাপিত গোপন প্রমাণগুলো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তারা দাবি করেন, আইনসম্মত স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও প্রমাণ গোপন করে বিচার করা মার্কিন সংবিধানের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার লঙ্ঘন। তারা এই বিশেষ আদালতকে অসাংবিধানিক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

Leave a Comment