অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্লুটাথিয়নে অগ্নিনির্বাপকদের স্বস্তি, ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা ইউনিয়নদের

September 13, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসাডেনাতে অগ্নিনির্বাপক দলের ক্যাপ্টেন ডেভিড মার্কেজ দাবদাহের ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সুস্থতায় গ্লুটাথিয়ন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। দীর্ঘ ২৫ বছরের কর্মজীবনে ধোঁয়ার কারণে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী কাশি, মাথাব্যথা ও ক্লান্তি দূর করতে এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টটি কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি দাবি করেন। দাবদাহ বা ওয়াইল্ডফায়ারের সময় বিষাক্ত ধোঁয়া ইনহেল করার ফলে অগ্নিনির্বাপকদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি থাকে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলে গ্লুটাথিয়ন ব্যবহারের বিষয়টি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ইন্টিগ্রেটেড হেলথ অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (IHAN) নামক একটি স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন অগ্নিনির্বাপকদের এই চিকিৎসা প্রদান করছে। আয়োজকদের দাবি, এটি অগ্নিনির্বাপকদের শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে এবং তাদের ক্লান্তি ও মস্তিষ্কের অস্পষ্টতা (ব্রেন ফগ) কমাতে সাহায্য করে।

তবে এই পদ্ধতির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ফায়ার ফাইটার্স (IAFF)। সংগঠনটির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিভাগের সহকারী সভাপতি শন ডিক্রেন বলেন, গ্লুটাথিয়নের কার্যকারিতা নিয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই এবং কোনো দীর্ঘমেয়াদী গবেষণাও সম্পন্ন হয়নি। এছাড়া সম্প্রতি কিছু ফার্মেসিতে গ্লুটাথিয়ন সরবরাহে দূষণের কারণে পণ্য প্রত্যাহারের (রিকল) ঘটনাও ঘটেছে।

ডিক্রেন আরও জানান, অনেক অগ্নিনির্বাপক গ্লুটাথিয়ন ব্যবহারের পর শারীরিক অবস্থার উন্নতির বদলে অবনতি হওয়ার অভিযোগ করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে এর প্রভাব কেবল মানসিক প্রশান্তি বা প্লাসিবো ইফেক্ট কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্লুটাথিয়নের মতো অনিয়ন্ত্রিত চিকিৎসার পেছনে সময় ব্যয় না করে অগ্নিনির্বাপকদের সুরক্ষায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE) এবং সঠিক ডি-কন্ট্যামিনেশন বা দূষণমুক্ত করার প্রক্রিয়ায় জোর দেওয়া প্রয়োজন। ইদানিংকালে অগ্নিনির্বাপকদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়লেও, এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টটি দীর্ঘমেয়াদে কতটা নিরাপদ তা নিয়ে এখনো সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।

Leave a Comment