আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে সফরত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আয়ারল্যান্ডকে ঐক্যবদ্ধ দেখাটা হবে দারুণ একটি বিষয়। শনিবার ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিচেল মার্টিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের এমন মন্তব্য যুক্তরাজ্য সরকারের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমি কোনো সমস্যা তৈরি করতে চাই না, তবে আমি আয়ারল্যান্ডকে ঐক্যবদ্ধ দেখতে চাই। এটি শেষ পর্যন্ত ঘটবে বলে আমি মনে করি এবং এটি একটি চমৎকার বিষয় হবে। এ সময় তিনি আরও যোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাজ্যের কিছু বলার থাকতে পারে, তবে এটি একটি দারুণ পদক্ষেপ হবে। ট্রাম্পের মন্তব্যের সময় পাশে থাকা মিচেল মার্টিন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
এর কয়েক সপ্তাহ আগেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম জানিয়েছিলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বর্তমানে তাদের বিবেচনায় নেই। বুধবার পার্লামেন্টে এক প্রশ্নের জবাবে বার্নাম বলেন, আরেকটি গণভোটের জন্য জনসমর্থন রয়েছে এমন তথ্য তার কাছে নেই, তাই জনমত পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত এমন কিছু হওয়ার সুযোগ নেই। ট্রাম্পের মন্তব্যের পরও তার অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে জানিয়েছেন বার্নামের মুখপাত্র।
১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের সাথে থাকার বা বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি কেবল ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) নেতা গ্যাভিন রবিনসন ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জানান, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সেখানকার জনগণই নির্ধারণ করবে, ওয়াশিংটন বা অন্য কোনো জায়গার মন্তব্য নয়।
ট্রাম্পের এই সফরকে কেন্দ্র করে ডাবলিনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের বৈশ্বিক কর্মকাণ্ড এবং ইসরায়েল ইস্যুতে তার ভূমিকার কড়া সমালোচনা করছেন। পাশাপাশি, তার সফরের নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক খরচের বিরোধিতা করে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এই অর্থ স্বাস্থ্যসেবাসহ সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা যেত।