যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এনভিডিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের বার্ষিক জিটিসি সম্মেলনে নতুন গ্রাফিক্স প্রযুক্তি ‘ডিএলএসএস ৫’ উন্মোচন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং দাবি করেছেন, ২০১৮ সালে রিয়েল-টাইম রে ট্রেসিং আসার পর এটিই গ্রাফিক্সের সবচেয়ে বড় উদ্ভাবন। তবে এই ঘোষণার পর থেকেই গেমার এবং গেম ডেভেলপারদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এই প্রযুক্তি গেমের মূল শৈল্পিক সৌন্দর্যকে নষ্ট করে দিচ্ছে।
প্রযুক্তিটি কীভাবে কাজ করে
এনভিডিয়ার আগের ডিএলএসএস সংস্করণগুলো মূলত গেমের পারফরম্যান্স বা ফ্রেমরেট বাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু ডিএলএসএস ৫ মূলত এআই ব্যবহার করে গেমের প্রতিটি ফ্রেমের রঙ ও মোশন ডেটাকে নতুন করে সাজায়। এর মাধ্যমে ত্বকের গঠন, কাপড় এবং আলোর উজ্জ্বলতা কৃত্রিমভাবে বাস্তবসম্মত করার চেষ্টা করা হয়। এনভিডিয়ার দাবি, এটি গেমের গ্রাফিক্সকে ফটোরিয়ালিস্টিক বা বাস্তব ছবির মতো করে তুলবে।
কেন বিতর্ক তৈরি হয়েছে
জিটিসি সম্মেলনে রেসিডেন্ট ইভিল রিকুইয়েম এবং স্টারফিল্ড গেমের ওপর এই প্রযুক্তির ডেমো দেখানো হয়। প্রদর্শনীতে গেমের চরিত্রগুলোর চেহারা অস্বাভাবিকভাবে চকচকে ও মসৃণ হয়ে ওঠায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা একে ‘বিউটি ফিল্টার’ বা ‘এআই সপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অনেক ডেভেলপার এবং শিল্পী অভিযোগ করেছেন যে, এই প্রযুক্তি গেমের মূল নির্মাতাদের শৈল্পিক স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতার প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে।
এনভিডিয়ার অবস্থান
সমালোচনার মুখে এনভিডিয়া জানিয়েছে, গেম ডেভেলপারদের হাতে ডিএলএসএস ৫-এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে, যাতে গেমের মূল নান্দনিকতা বজায় থাকে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি মূলত জিওমেট্রিক পর্যায়ে কাজ করে, কোনো সাধারণ ফিল্টার নয়। সম্প্রতি ২৮ আগস্ট এনবিএ ২কে২৭ গেমের মাধ্যমে ডিএলএসএস ৫-এর একটি সংস্করণ ফাঁস হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন গেমে মডাররা এটি ব্যবহার করে দেখছেন, যা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। আগামী শরৎকালে এই প্রযুক্তির আনুষ্ঠানিক মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।