দুগ্ধজাত খাবার প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়, জানতেন না অধিকাংশ পুরুষ

September 13, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের ১,১০২ জন পুরুষের ওপর পরিচালিত একটি নতুন জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ পুরুষই জানেন না যে দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণের সঙ্গে প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। এই গবেষণায় উঠে এসেছে যে, মাত্র ২০ শতাংশ পুরুষ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তবে এই ঝুঁকির কথা জানার পর ৬৬ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা ভবিষ্যতে দুগ্ধজাত খাবার বর্জনের কথা বিবেচনা করবেন। ফিজিশিয়ানস কমিটি ফর রেসপন্সিবল মেডিসিনের পক্ষে মর্নিং কনসাল্ট এই জরিপটি পরিচালনা করেছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ২০ শতাংশ পুরুষ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর কাছ থেকে পুষ্টি এবং প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকির সম্পর্কের বিষয়ে কোনো তথ্য পেয়েছেন। ফিজিশিয়ানস কমিটি ফর রেসপন্সিবল মেডিসিনের ডায়েটিশিয়ান নোয়াহ প্রামসমা বলেন, দুগ্ধজাত খাবারের ক্ষতিকর দিক এবং উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্যাভ্যাসের সুফল সম্পর্কে চিকিৎসকদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

বিভিন্ন পূর্ববর্তী গবেষণাতেও দুধ ও পনিরের মতো দুগ্ধজাত খাবারের সঙ্গে প্রোস্টেট ক্যান্সারের উচ্চ ঝুঁকির যোগসূত্র পাওয়া গেছে। ৩২টি গবেষণার একটি মেটা-বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যারা বেশি পরিমাণে দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করেন তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন অন্তত এক পরিবেশন স্কিম বা লো-ফ্যাট দুধ পান করেন, তাদের প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি ১৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

দুগ্ধজাত খাবার শুধু ক্যান্সারের ঝুঁকিই বাড়ায় না, বরং মৃত্যুঝুঁকির সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। ১১টি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যারা সবচেয়ে বেশি হোল মিল্ক বা পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ পান করেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৬ শতাংশ পুরুষই দুগ্ধজাত পণ্যে প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা যুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

উদ্ভিদভিত্তিক খাবারের সুফল নিয়ে প্রামসমা বলেন, অধিকাংশ পুরুষই জানেন যে ফল, শাকসবজি এবং শস্যদানা ক্যান্সার থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সম্পূর্ণ উদ্ভিদভিত্তিক বা ভেগান ডায়েট মেনে চলেন, তাদের প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি ৩৫ শতাংশ কম। এছাড়া ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার পরও উদ্ভিদভিত্তিক খাবার গ্রহণ করলে রোগটি ছড়িয়ে পড়া বা পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

Leave a Comment