উগান্ডার ফোর্ট পোর্টালে টোরো রাজ্যের রাজা ওওয়ে নিম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থকে সমাহিত করা হয়েছে। ক্যান্সারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে মারা যান ৩৪ বছর বয়সী এই রাজা। তার উত্তরাধিকার নির্বাচন নিয়ে রাজপরিবার ও স্থানীয় গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ দেখা দেওয়ায় এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজার কফিন ফোর্ট পোর্টালে রাজকীয় সমাধিতে নেওয়ার সময় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় ভিড় করেন। তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসা রাজা ওওয়ে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ রাজা হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছিলেন।
রাজার উত্তরসূরি নিয়ে বিতর্ক
রাজার শেষকৃত্যের সময় গোষ্ঠীপ্রধানদের মনোনীত নতুন রাজা প্রিন্স এডওয়ার্ড রুকিদি কিজানানগোমা কবরে কফি বিন নিক্ষেপ করে নতুন শাসনের সূচনা করেন। তবে রাজপরিবার কিজানানগোমাকে নতুন রাজা হিসেবে মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। প্রয়াত রাজার বোন প্রিন্সেস রুথ কোমুন্তালে জানিয়েছেন, ২০২২ সালে রাজা ওওয়ে একটি উইল লিখে গিয়েছিলেন, যেখানে তার ছেলেকে উত্তরাধিকারী ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ওই শিশুর পরিচয় এখনো গোপন রাখা হয়েছে।
রাজপরিবারের অভিযোগ ও সরকারি হস্তক্ষেপ
রাজার মা কুইন বেস্ট কেমিগিসা অভিযোগ করেছেন যে, প্রাসাদ থেকে রাজকীয় রক্ষীদের সরিয়ে সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর ফলে তাদের চলাফেরা সীমিত হয়ে পড়েছে এবং তারা কোনো দর্শনার্থীর সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না। একে তিনি গৃহবন্দিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
শান্তির আহ্বান
শনিবার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে উগান্ডার চার্চের আর্চবিশপ স্টিফেন কাজিম্বা মুগালু সকলকে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেন, শোকের সময়ে কথা ও কাজের মাধ্যমে বিভাজন সৃষ্টি করা উচিত নয়। উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি মুসেভেনিও এই বিবাদ মিটিয়ে ঐক্যের পথে হাঁটার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, বাবিতো রাজকীয় গোষ্ঠীর প্রধান ওমুসুগা চার্লস কারুমাসি জানিয়েছেন, তারা টোরো রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মেনেই কিজানানগোমাকে নতুন রাজা হিসেবে নির্বাচন করেছেন এবং শান্তি বজায় রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।