যুক্তরাষ্ট্রের এনগেজেট প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিনামূল্যের ভিপিএন ব্যবহারের ঝুঁকির বিষয়টি উঠে এসেছে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিপিএন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা এবং তাদের আয়ের উৎস জানা কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
বিনামূল্যের ভিপিএন কেন ঝুঁকিপূর্ণ
অনেক নামী ভিপিএন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন সেবার পাশাপাশি সীমিত আকারের ফ্রি সংস্করণ অফার করে। তবে এমন অনেক পরিষেবা রয়েছে যেগুলোর আয়ের উৎস অস্পষ্ট। বিশেষজ্ঞ নোয়াক বোজোভিচ জানান, এই ধরনের অ্যাপ অনেক সময় বিজ্ঞাপন প্রদর্শন বা তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে ব্যবহারকারীর তথ্য বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করে। ভিপিএন ব্যবহারের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ সুরক্ষিত রাখার বদলে উল্টো ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
গবেষণার তথ্য
২০২৬ সালে প্রকাশিত এনডিএসএস-এর একটি গবেষণায় অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মের ২৮১টি জনপ্রিয় ভিপিএন অ্যাপ পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২৯টি অ্যাপ ভিপিএন টানেলের বাইরে ব্যবহারকারীর ডেটা ফাঁস করে। ৬১টি অ্যাপ এনক্রিপশনবিহীন তথ্য আদান-প্রদান করে এবং ৭৬টি অ্যাপ ব্যবহারকারীর বিজ্ঞাপন আইডি সংগ্রহ করে, যা দিয়ে ট্র্যাকিং করা সম্ভব। এই ফলাফল প্রমাণ করে যে, ভিপিএন অ্যাপটি সংযুক্ত দেখালেও তা সবসময় নিরাপদ নাও হতে পারে। এছাড়া অনেক সময় ম্যালওয়্যার ছদ্মবেশে ভিপিএন হিসেবে ব্যবহারকারীর ডিভাইসে প্রবেশ করতে পারে।
নিরাপদ ভিপিএন চেনার উপায়
কোনো ভিপিএন ব্যবহারের আগে এর ব্যবসায়িক মডেল যাচাই করা প্রয়োজন। যে প্রতিষ্ঠানের পেইড বা সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিক সেবা রয়েছে, তাদের ফ্রি টায়ারগুলো সাধারণত বেশি নির্ভরযোগ্য হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, স্বচ্ছ প্রাইভেসি পলিসি এবং নিরপেক্ষ নিরাপত্তা অডিট আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে। ওয়্যারগার্ড বা ওপেনভিপিএন-এর মতো স্বীকৃত প্রোটোকল ব্যবহারকারী এবং কিল সুইচ সুবিধাযুক্ত অ্যাপগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশি নিরাপদ। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের আয়ের উৎস গোপন রেখে অনিয়ন্ত্রিত সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে তা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।