শরীরের প্রদাহ বন্ধ করার গোপন ‘সুইচ’ আবিষ্কার করলেন বিজ্ঞানীরা

September 14, 2026

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) গবেষকরা মানবদেহে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন বন্ধ করার একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া বা ‘সুইচ’ শনাক্ত করেছেন। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগে আক্রান্ত কোটি কোটি মানুষের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণত সংক্রমণ মোকাবিলা এবং টিস্যু মেরামতের জন্য শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রদাহ তৈরি করে। তবে এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘসময় ধরে চলতে থাকলে তা সুস্থ টিস্যুর ক্ষতি করতে শুরু করে, যা আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরে প্রদাহ শুরুর প্রক্রিয়াটি জানলেও, শরীর কীভাবে তা থামায় সে বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা ছিল না।

গবেষণা অনুযায়ী, ‘ইপোক্সি-অক্সিলিপিন’ নামক চর্বিজাত কিছু ক্ষুদ্র অণু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য প্রাকৃতিক ব্রেক হিসেবে কাজ করে। এগুলো শরীরের শ্বেত রক্তকণিকার একটি নির্দিষ্ট অংশের অতিরিক্ত বৃদ্ধি রোধ করে প্রদাহ প্রশমিত করতে সাহায্য করে। এই শ্বেত রক্তকণিকাগুলো অল্প সময়ের জন্য ক্ষত সারাইয়ে সাহায্য করলেও, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের জন্য দায়ী হতে পারে।

গবেষণার অংশ হিসেবে সুস্থ স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, যারা নির্দিষ্ট ওষুধের মাধ্যমে শরীরে ইপোক্সি-অক্সিলিপিনের মাত্রা বাড়িয়েছিলেন, তাদের ব্যথা দ্রুত কমেছে এবং রক্ত ও টিস্যুতে প্রদাহ সৃষ্টিকারী কোষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার প্রধান গবেষক ড. অলিভিয়া ব্র্যাকেন জানান, এটি শরীরের এমন এক প্রাকৃতিক পথ যা ক্ষতিকর কোষের বিস্তার রোধ করে প্রদাহ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

এই আবিষ্কারের ফলে বর্তমানের প্রচলিত ওষুধের বিকল্প বা সহযোগী হিসেবে নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন সম্ভব হবে। প্রচলিত অনেক ওষুধ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে প্রদাহ কমায়, কিন্তু নতুন এই পদ্ধতি শরীরের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও হৃদরোগের চিকিৎসায় এই পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে আশাবাদী গবেষকরা।

Leave a Comment