রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ২০২৪ সালে ইউক্রেনীয় বাহিনীর আকস্মিক হামলার পর থেকে শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছে, যাদের সন্ধানে এখনো হন্যে হয়ে ঘুরছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে রুশ প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। লিউবভ নামের এক ভুক্তভোগী জানান, হামলার সময় সরকারি প্রচারণায় আশ্বস্ত হয়ে তার মা নিজ গ্রাম ছাড়তে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত তার মায়ের মৃতদেহটি স্থানীয় মর্গে পরিচয়হীন অবস্থায় পাওয়া যায়, কারণ সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে তার ডিএনএ নমুনা হারিয়ে গিয়েছিল।
কুরস্কের স্থানীয় গভর্নর জানিয়েছেন, এখনো তিন শতাধিক মানুষ নিখোঁজ, তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধের সময় মোবাইল ও ইন্টারনেট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। নিখোঁজদের স্বজনরা রেড ক্রস ও মানবাধিকার কমিশনের কাছে বারবার সাহায্য চাইলেও কোনো সাড়া পাননি। উল্টো মানবাধিকার কমিশনারের প্রকাশিত নিখোঁজের তালিকায় ভুক্তভোগীদের নাম ও পরিচয় গুলিয়ে ফেলা হয়েছে, যা স্বজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলায় কয়েক মাসের জন্য কুরস্কের বড় একটি এলাকা দখলে চলে যায়। রুশ বাহিনী পরবর্তীতে এলাকাটি পুনর্দখল করলেও ততদিনে অনেক গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় অনেক মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেভাবে কোনো সহায়তা মেলেনি। ভুক্তভোগীরা এখন সরকারের এই ব্যর্থতা ও যুদ্ধের ভয়াবহতায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, কারণ এক সময়ের শান্ত সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো আজ অস্তিত্বহীন। বিবিসি এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে কুরস্কের গভর্নর, রুশ মানবাধিকার কমিশনার ও রেড ক্রসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।