ফিনল্যান্ডের রোভানিয়ামিতে ইউরোপীয় আর্কটিক সম্মেলনে ১২টি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র আর্কটিক অঞ্চলে তাদের বিনিয়োগ এবং কৌশলগত তৎপরতা বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। সোমবার আয়োজিত এই সম্মেলনে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ ও ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেটেরি অর্পোসহ অন্যান্য নেতারা অঞ্চলটিকে নতুন ভূ-রাজনৈতিক হটস্পট হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই উদ্যোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ বরফ গলে যাওয়া আর্কটিকে নতুন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যেখানে রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, গ্রিস, জার্মানি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও সুইডেন। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ জানান, আর্কটিক অঞ্চলে ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে এখন বাড়তি মনোযোগ দেওয়া জরুরি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে উদাসীন থাকার সময় শেষ হয়েছে।
রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেটেরি অর্পো বলেন, আর্কটিকের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য রাশিয়া দীর্ঘমেয়াদী হুমকি। এই হুমকি মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অঞ্চলটিকে একটি কৌশলগত সীমান্ত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পর পরিত্যক্ত সামরিক ঘাঁটিগুলো রাশিয়া সম্প্রতি আধুনিকায়ন করছে, যা ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ায় সেখানে জাহাজ চলাচল, মাছ ধরা এবং খনিজ উত্তোলনের নতুন পথ তৈরি হচ্ছে। চীনের এই অঞ্চলে বাণিজ্যের আগ্রহও নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। এছাড়া গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসেন জানান, গ্রিনল্যান্ড বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। এই উদ্বেগ প্রশমনে গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্রিনল্যান্ডের সাথে একটি অংশীদারিত্ব চুক্তি করেছে এবং ২০০ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।