পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিনের উপকূলে প্রায় ৬০ বছর ধরে মৃত বলে বিবেচিত একটি গভীর সমুদ্রের প্রবাল প্রাচীরকে জীবন্ত ও সুস্থ অবস্থায় খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া জেরার্ড জিনজিন্দোহুয়ে জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সমুদ্রের ৫০ মিটার নিচে প্রবালের এই অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। যা অঞ্চলটির সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নিয়ে নতুন ধারণার জন্ম দিয়েছে।
১৯৬০-এর দশকে পরিচালিত এক জরিপে বেনিন উপকূলে এই প্রবাল প্রাচীরটিকে মৃত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। মূলত মৎস্য আহরণের ক্ষেত্র খোঁজার লক্ষ্যে সেই সময় জরিপটি চালানো হয়। দীর্ঘ সময় পর গবেষকরা আধুনিক সোনার প্রযুক্তি এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজি ল্যাবের ডিপ সি ক্যামেরা সিস্টেম ব্যবহার করে পুনরায় এলাকাটিতে অনুসন্ধান চালান।
গবেষণার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে জেরার্ড জিনজিন্দোহুয়ে বলেন, সাগরে দীর্ঘ সময় কাটানো এবং প্রযুক্তিগত নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে আমরা এই সাফল্য পেয়েছি। যখন ক্যামেরায় সমুদ্রের তলদেশে প্রবালের স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ে, তখন এটি ছিল অবিশ্বাস আর উত্তেজনার এক দারুণ মুহূর্ত।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এটি একটি মেসোফোটিক কোরাল ইকোসিস্টেম বা প্রবাল বাস্তুতন্ত্র। সাধারণ প্রবাল প্রাচীরের মতো এটি একটানা না হয়ে সমুদ্রের তলদেশের পাথুরে অংশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সেখানে অন্তত আট প্রজাতির প্রবাল এবং বিভিন্ন ধরণের মাছের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
গবেষকদের ধারণা, গিনি উপসাগরের মহীসোপানে এটিই প্রথম নিশ্চিত কোনো জীবন্ত প্রবাল বাস্তুতন্ত্র। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, এটি কেবল গবেষণার একটি প্রাথমিক ধাপ। প্রবালগুলোর নমুনা সংগ্রহ এবং বিস্তারিত বিশ্লেষণের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
ঐতিহাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপকূলের সমান্তরালে এই প্রাচীরটি প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ হতে পারে। এখন পর্যন্ত এর খুব সামান্য অংশই জরিপের আওতায় এসেছে। ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত গবেষণার মাধ্যমে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলীয় অঞ্চলে এমন আরও অনেক প্রবাল প্রাচীর খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।